শুকনা বীজতলা পদ্ধতিতে পীরগঞ্জে কৃষকের স্বস্তি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শুকনো বীজতলা পদ্ধতিতে বোরো ধানের বীজতলা চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুকনো বীজতলা ও সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা পদ্ধতি অবলম্বন করায় কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার ভোগান্তি থেকে অধিকাংশ কৃষক মুক্তি পেল।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, একটু সচেতন হওয়ায় মাত্র দুই বছরেই এ উপজেলার চাষিরা এখন নিজের বীজতলা নিজেরাই রক্ষার কৌশল রপ্ত করে ফেলেছেন।
পীরগঞ্জের চন্দরিয়া গ্রামের এনামুল হক, বাসন্ডি গ্রামের সুকুমার রায় ও সেনগাঁও গ্রামের সকনাল রায় বলেন, শুকনো পদ্ধতিতে বীজতলা করে এবার তাঁরা শীতের কুয়াশায় তা নষ্ট হওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁরা জানান, শুকনো পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির জন্য প্রথমে বীজতলাতে মাটি, বালু ও গোবরের ঝুরঝুরা হালকা স্তরে অঙ্কুরিত বীজের ধান ছিটিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এভাবে টানা ২০-২২ দিন পর বীজতলাকে সূর্যের আলো ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তিন-চার দিন দুই-তিন ঘণ্টা করে পলিথিনের ঢাকনা খুলে দিতে। এভাবে ২৫-২৬ দিন থেকে ৩৫-৩৬ দিন পর্যন্ত বয়সী চারা বীজ রোপণ করা যাবে।
দৌলতপুর গ্রামের চাষি ক্ষিতীশ চন্দ্র, বসন্তপুর গ্রামের ক্ষেত্র রায়, বৈরচুনা গ্রামের আবদুল বাসেদসহ আরও পাঁচজন চাষি বলেন, আগের সাধারণ নিয়মে বোরোর বীজতলা তৈরির ফলে শীত-কুয়াশার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের সর্বত্র বেশির ভাগ বোরো ধানের চারা বীজ বীজতলাতেই নষ্ট হয়ে যেত। পৌষ-মাঘের তীব্র শীত আর কুয়াশার প্রভাব বীজতলার জন্য এতই ক্ষতিকারক যে বিভিন্ন প্রকার ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কাজ হতো না।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ থেকে সাত বছর আগে শীত আর কুয়াশায় চাষিরা বীজতলা রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বোরো ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুমে বেশির ভাগ সময়েই দেখা দিত বোরো বীজ সংকট। দুই-তিন বছর ধরে আধুনিক শুকনো পদ্ধতিতে বীজতলা করায় কৃষকদের আর ওই সমস্যায় পড়তে হয় না।
পীরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম বলেন, এখন চাষিরা শুকনো ও পলিথিন পদ্ধতি অবলম্বন করায় আর বীজতলা নষ্ট হওয়ার কথা শোনা যায় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবার উপজেলায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বীজতলা শুকনো পদ্ধতিতে তৈরি করেছেন চাষি।