ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে পুলিশি হেফাজতে শামীম সরকার (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে টাকার জন্য শামীমকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শামীম হত্যার ঘটনায় ঢাকার অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মিজানুর রহমান খানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি এবং ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেনকে প্রধান করে আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে মিজানুর রহমান খান গতকাল ডিআইজির কাছে তাঁর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শামীমকে ৫ জুন হেমায়েতপুর থেকে আটকের পর তাঁর পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দর-কষাকষির পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে ওই পরিমাণ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁকে চামড়া শিল্পনগরের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক, সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক আকিদুল ইসলামসহ কনস্টেবল মোফাজ্জল হোসেন, ইউসুফ আলী ও রমজান আলীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে ফাঁড়ির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহীদুল ইসলাম, প্রহরীসহ সাভার থানার উপপরিদর্শক সাজ্জাদ রোমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এসআই এমদাদুল হক, সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক আকিদুল ইসলামসহ কনস্টেবল মোফাজ্জল হোসেন, ইউসুফ আলী ও রমজান আলী গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
সাভার মডেল থানার সাদা পোশাকধারী দলের (সিভিল টিম) সদস্য এএসআই আকিদুল ইসলাম হেমায়েতপুরের মোল্লা সিএনজি স্টেশন থেকে শামীম ও তাঁর ভাগনে সাইফুলকে আটক করেন। এরপর টাকা না পেয়ে এসআই এমদাদ ও এএসআই আকিদুলসহ তিন কনস্টেবল তাঁদের চামড়া শিল্পনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে শামীম মারা গেলে ওই দুই কর্মকর্তা ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে লাশ রেখে গা ঢাকা দেন। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামীমের ভাই আমিন সরকার বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় এসআই এমদাদুল হক, এএসআই আকিদুল ইসলাম, কনস্টেবল মোফাজ্জল হোসেন, ইউসুফ আলী ও রমজান আলীকে আসামি করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মিজানুর রহমান খান বলেন, তদন্তে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে টাকার জন্য শামীমকে নির্যাতন করে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও দায়িত্বে অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধী যে-ই হোক কাউকে, ছাড় দেওয়া হবে না।’