সেন্ট মার্টিনে ভারী অস্ত্রসহ বিজিবি মোতায়েন

দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত সেন্ট মার্টিনে ভারী অস্ত্রসহ বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল সেন্ট মার্টিনের জেটিতে। ছবি: বিজিবির সৌজন্যে
দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত সেন্ট মার্টিনে ভারী অস্ত্রসহ বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল সেন্ট মার্টিনের জেটিতে।  ছবি: বিজিবির সৌজন্যে
>

• টেকনাফ ২ বিজিবির একটি অংশ সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে
• তারা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করবে
• সেন্ট মার্টিন সীমান্তে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাহারাও রয়েছে
• রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কিছুটা অস্থিরতা

দেশের দক্ষিণ সীমান্তের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে গতকাল রোববার থেকে ভারী অস্ত্রসহ সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশে সেখানে বিজিবি সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফে বিজিবির স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, টেকনাফ ২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন থেকে একটি অংশ সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে। তারা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাজ করবে। সেন্ট মার্টিন সীমান্তে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাহারাও রয়েছে।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারী অস্ত্রসহ বিজিবি মোতায়েনের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, আগে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিজিবির পাহারা ছিল। এখন সেটা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে সীমান্তে কোনো উত্তেজনা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, উত্তেজনা নেই, তবে মিয়ানমার এর আগে দুবার সেন্ট মার্টিন তাদের বলে দাবি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তার কড়া প্রতিবাদ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত সম্মেলন ৬ এপ্রিল শুরু হয়েছে মিয়ানমারের নেপিডো শহরে। ১০ এপ্রিল সম্মেলন শেষ হবে। সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ছিল। এরপর থেকে সেন্ট মার্টিনের বিজিবির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এত দিন কোস্টগার্ডের সদস্যরা সেখানে পাহারা দিয়ে আসছিলেন।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশের একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমার উপকূল থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ১৭ বর্গকিলোমিটারে এই দ্বীপে সাড়ে ৮ হাজার মানুষ বসবাস করে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলমান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু নিহত হয়। জীবন রক্ষার্থে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে। এদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ তৎপর হলেও মিয়ানমার নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমার সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করা হলেও সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে। এ নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিরতা রয়েছে। এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সে দেশের বাসিন্দাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।