বছরে ৮৬ হাজার নারী গৃহকর্মীর পলায়ন

সৌদিতে বিদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় আইন

.

সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশি কর্মীসহ সব কর্মীর অধিকার সুরক্ষায় একটি নতুন আইন করেছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী, কোনো নিয়োগদাতা আইন ভঙ্গ বা কোনো কর্মীর অধিকার নষ্ট করলে নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।
এদিকে সৌদিতে বছরে ৮৬ হাজার নারী গৃহকর্মীর কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির শুরা কাউন্সিল। খবর দ্য সৌদি গেজেট ও আল-আরাবিয়ার।
গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য সৌদি গেজেট-এর খবরে কর্মী সুরক্ষার নতুন আইন ভঙ্গের দায়ে নিয়োগকর্তা বা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধার্যকৃত জরিমানা বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।
আইন লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও এ-সংক্রান্ত জরিমানার মধ্যে রয়েছে—কর্মীদের পাসপোর্ট রেখে দিলে ২ হাজার রিয়াল (সৌদি আরবের মুদ্রা), কর্মীদের চুক্তিপত্রের অনুলিপি না দিলে ৫ হাজার রিয়াল, নারীদের জন্য নির্ধারিত কাজে পুরুষ কর্মী নিয়োগ করলে প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার রিয়াল, চুক্তিপত্রে উল্লেখ নেই এমন কাজ করতে বাধ্য করলে ১৫ হাজার রিয়াল, কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মান লঙ্ঘন করলে ২৫ হাজার রিয়াল, সৌদিদের জন্য নির্ধারিত কাজে বিদেশিদের নিয়োগ দিলে ২৫ হাজার রিয়াল, অনুমতি ছাড়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দিলে ৪৫ হাজার রিয়াল ও বিদেশি কারও কাছে ভিসা বিক্রি করলে ৫০ হাজার রিয়াল দিতে হবে। এ ছাড়া, কর্মীদের বেতন দিতে দেরি, ওভারটাইমের অর্থ ছাড়াই বাড়তি কাজ করানো বা সরকার-নির্ধারিত সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনে কাজ করতে বাধ্য করার জন্যও জরিমানা দিতে হবে নিয়োগকর্তা বা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে।
আইনটিতে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করার ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের জন্য জরিমানা দ্বিগুণ করারও বিধান রাখা হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। আইন লঙ্ঘনকারীকে এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুনরায় আইন লঙ্ঘন করেছে বলে বিবেচিত হবে।
৮৬ হাজার নারী গৃহকর্মীর পলায়ন: সৌদি আরবে প্রতিবছর ৮৬ হাজার নারী গৃহকর্মী কর্মস্থল অর্থাৎ নিয়োগকর্তার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে খবর প্রকাশ করেছে আল-আরাবিয়া। এতে বলা হয়, সৌদি শুরা সদস্যদের মতে, এটা একটা গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এ অবস্থায় গৃহকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে ও সমস্যা সমাধানে সুপারিশমালা প্রণয়নে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন সৌদি স্বাস্থ্য কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল-ওতাইবি।
কারও কারও দাবি, গৃহকর্মীরা নিয়োগদাতাদের কারণেই পালান। তবে সৌদির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাইল শহরের একজন কমিউনিটি নেতা বলেন, বেতন পরিশোধ না করা, ঠিকমতো খেতে না দেওয়া ও দুর্ব্যবহারের জন্য তাঁরা পালিয়ে যান। সৌদি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশটিতে মোট জনশক্তি ১ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশই বিদেশি কর্মী।