পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসন, র্যা ব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আট দালালকে আটক করেছে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানার দণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পাবনা সদরের গোপালবাগের জাহাঙ্গীর হোসেন, সিঙ্গা মহল্লার নাজমুল হোসেন, শালগাড়িয়ার স্বপন হোসেন, শালগাড়িয়া গোরস্থানপাড়ার রওশন আলম, সাধুপাড়া মহল্লার রনি হোসেন, শালগাড়িয়া মহল্লার রফিকুল ইসলাম, উত্তর শালগাড়িয়া মহল্লার আবদুল মমিন ও সদর উপজেলার কাঁকড়কাটা গ্রামের মণি উদ্দিন।
এদের মধ্যে প্রথম চারজনের ছয় মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার দণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর চারজনকে শুধু ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন পাবনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল ইসলাম।
সাইদুল ইসলাম বলেন, দালাল চক্রটি রোগীদের হয়রানি ও জিম্মি করে টাকা আদায় করছিল। এমনকি তারা লাশ নেওয়ায় সময়ও নানা প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করছিল। অভিযানে বেশ কয়েকজন দালালকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হাতেনাতে আটক করেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। জেনারেল হাসপাতালে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
অভিযানে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সব সময় রোগীর চাপ থাকে। আগত রোগীদের অধিকাংশই স্বল্পশিক্ষিত। এই সুযোগে একটি দালাল চক্র তাদের জিম্মি করে বিভিন্ন ব্যবসা খুলে বসে। সেবা দেওয়ার নাম করে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। আবার উন্নত সেবার নামে রোগীদের ফুসলিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যেত। চিকিৎসকেরা এতে বাধা দিলে দালাল চক্রটি তাঁদের ওপরও বেশ কয়েকবার চড়াও হয়।
কয়েকজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালজুড়ে সব সময় তরুণ চিকিৎসকদের আনাগোনা থাকে। এতে দালাল চক্রটির বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছিল। সম্প্রতি এ চক্রের সদস্যরা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তারা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের বিভিন্ন সময় হুমকিও দিয়েছে।