১৪ কোম্পানিকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

২০ কোম্পানিকে ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানিকে সাত দিনের মধ্যে সব ধরনের ওষুধ ও ১৪টি কোম্পানিকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালকসহ চারজনকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই ৩৪টি কোম্পানির ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক, ওষুধ শিল্প সমিতির সেক্রেটারি জেনারেলসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
যে ২০টি কোম্পানিকে সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যালস, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যালস, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলফা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ড্রাগ ফার্মা, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস, রেমো কেমিক্যালস (ফার্মা ডিভিশন), রিড ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস, স্টার ফার্মাসিউটিক্যালস, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যালস, টুডে ফার্মাসিউটিক্যালস, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যালস।
যে ১৪টি কোম্পানিকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো আদ্-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যালস (ফার্মা), ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রিস্টাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথকেয়ার (সাবেক সিনথো ল্যাবরেটরিজ), অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, ফিনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি, রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেভ ফার্মাসিউটিক্যালস।
ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি পরিদর্শন করে। কমিটির প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৪টি কোম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
পরে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এতে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ এসব কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। গতকাল আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র বলেছে, ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ওষুধশিল্পের পরিস্থিতি জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এই কমিটি মোট ২৪২টি ওষুধ কোম্পানি পরিদর্শন করেছে। ২০১১ সালে কমিটি প্রথম প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেশ কিছু কোম্পানিকে সতর্ক করা হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২০১৩ সালে আরও একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যর্থ ৮৪টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়। সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখে তৈরি করা প্রতিবেদন এ বছরের ২০ এপ্রিল সংসদীয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করেন আ ব ম ফারুক।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ-ছয় বছরে কিছু কোম্পানি কারখানার সন্তোষজনক উন্নতি ঘটিয়েছে। কারও উন্নতি মাঝারি গোছের। অনেকে উন্নতি করার নামে শুধু সময়ক্ষেপণ করেছে।
গতকাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সংসদীয় কমিটির সভার পর ২১ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয় এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২০টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেন। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ ছিল না। অধিদপ্তর ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং মে মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে। সেই তদন্তের ভিত্তিতে ২৬ মে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব দিতে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে রিট আবেদন হয়েছে এবং হাইকোর্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।