৩০ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস, ৭ কোটি টাকা জরিমানা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল, অনিবন্ধিত ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ৭ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ২০৩ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের জুলাই মাসে চার দিনসহ এই বছরে নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ কোটি ১৪ লাখ ২২ হাজার ১৮৬ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আদালতে দাখিল করা সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য এসেছে।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ সোমবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ওই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

‘৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ শিরোনামে গত বছরের ১১ জুন প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটিসহ এ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা কয়েকটি প্রতিবেদন যুক্ত করে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার, জব্দ ও ধ্বংস করতে নির্দেশনা চেয়ে জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান গত বছর রিটটি করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার বা ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও মজুতে জড়িত ব্যক্তি ও ফার্মেসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি ওঠে।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহফুজুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে শুনানিতে অংশ নেন।

পরে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ‌অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি টাকার ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ হাজার ৪৩৭টি মামলা হয়। এতে ৭ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করা হয়। প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধবিরোধী অভিযানের সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত।