
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসায়’ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। আজ বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
এক মাসের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসায় শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে, পররাষ্ট্রকে এ রকম একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে। আসলে আপনারা জানেন যে নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। অনেকেই যারা কাম্য না ঠিক, তারা এসে হাজির হয়ে যেতে পারে। আমরা সব তো ভিসা বন্ধ করছি না। ভিসা নিয়ে আসুক, যদি আসতে চান। যাদের উদ্দেশ্য ঠিক থাকবে, তাদেরকে আমরা আসতে দেব। কিন্তু হুট করে কেউ যাতে হাজির হয়ে না যায়, এ জন্য।’
চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষায় সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিমানবাহিনীর কথাই ধরুন, আমাদের বিমানগুলো সবই অত্যন্ত পুরোনো। অনেকগুলো ঠিক করে চালানোর অবস্থায়ও নেই। কাজেই আমাদের অন্তত কিছু ক্রয় করতে হবে। এগুলো কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা কী আনা হবে, এগুলো নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। আমরা একটা ভারসাম্য বজায় রেখে করব।’
আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আরাকান আর্মিকে মিয়ানমার সরকার বৈধ বলে স্বীকার করে না। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। বৈধ না, এমন কারও সঙ্গে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যোগাযোগ করতে পারে না, করবে না। আর মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক ত্যাগ করেনি।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি একটি সমস্যা, যেটা এক দিনে শুরু হয়নি, এক দিনে শেষ হয়ে যাবে না। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বেসরকারি মানুষ হিসেবে শুরুতে বলেছিলাম, (রোহিঙ্গা) সমস্যাটা যেভাবে চিন্তা করা হচ্ছে যে দুই–চার মাস বা এক–দুই বছরের মধ্যে সমাধান করে ফেলা হবে, তখন বলেছিলাম যে এটা হবে না। এটা যে ধরনের সমস্যা, তাতে করে দীর্ঘ সময় লাগবে। এটা অনেক সময় লাগবে এবং অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং আমাদের আরও দীর্ঘ সময় প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে, যাতে করে সমস্যার আমরা সমাধান করতে পারি। সে চেষ্টা চলছে।’
সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর যোগাযোগ হয়েছে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে ওদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ ব্যাপারে আপত্তি করা। মাঠে যাঁরা আছেন, তাঁরা আসলে কী করছেন, ঘণ্টা বা এক দিনের তথ্য আমার কাছে নেই। বিষয়টি দেখভাল করেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা।’
সৌদি আরবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তো আমরা উন্নত করার চেষ্টা করছি। উন্নত করার চেষ্টা করছি বলতে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে গত এক বছরে।’