চলতি বছরের ২ জানুয়ারি অ্যাম্বুলেন্সটি উপহার দেয় ভারত সরকার। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে এটি এক দিনও ব্যবহৃত হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ১০ মাস আগে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধাসংবলিত অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছিল ভারত সরকার। চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল, এই অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের মানসম্মত জরুরি সেবা দিতে পারবে। কিন্তু আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি এক দিনও ব্যবহৃত হয়নি।
সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরের মার্চে রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। তখন ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এরপর চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী।
অ্যাম্বুলেন্সটি কখনো সিটি করপোরেশনের পুরোনো নগর ভবন প্রাঙ্গণে, কখনো সংস্থাটির দামপাড়া ইয়ার্ডে রাখা হয়। এখন অ্যাম্বুলেন্সটি নগরের দামপাড়া ইয়ার্ডে পড়ে আছে। গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে ময়লার দাগ লেগে আছে। পাশে রাখা হয়েছে মশার ওষুধের ড্রাম।
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার মতো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল এই মুহূর্তে নেই। তাই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে এই সময়ে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কেউ চাহিদাও দেননি।
ভারত সরকার থেকে উপহার পাওয়া আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের দাম কত তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সিটি করপোরেশনের চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের একটি অ্যাম্বুলেন্সের দাম এক থেকে দেড় কোটি টাকা।
চিকিৎসকেরা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগীদের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়ে। তাঁদের মধ্যে অনেকের সার্বক্ষণিক আইসিইউ সেবার দরকার হয়। চট্টগ্রাম নগরে অন্তত ২০টি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আছে একটি। বাকিগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও চমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার নেই। এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজন হয়।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী ঢাকায় নিয়ে যেতে দুই ধরনের ভাড়া আসে। চিকিৎসকসহ হলে ভাড়া পড়ে ৩০ হাজার টাকা। আর চিকিৎসক ছাড়া হলে ভাড়া আসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেলে ভাড়া ২০ হাজার টাকার কম হবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের জন্য জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের সচিব খালেদ মাহমুদ।
অ্যাম্বুলেন্স চালু করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল নয়, সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ম ম মিনহাজুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সিটি করপোরেশন আছে। আর যদি চিকিৎসক না থাকেন, তাহলে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারত। এই অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলে মানুষ স্বল্প টাকায় ব্যবহার করতে পারতেন। এখন তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।