ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)

আমার ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসত: আরমান

গুম থাকার সময় তাঁর ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসত বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর আহমাদ বিন কাসেম চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা ব্যস্ততার কারণে এত দিন তাঁর জেরা শেষ হয়নি। রোববার তাঁর জেরা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে এই মামলায় তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

এই মামলার পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের জেরার জবাবে আরমান বলেন, পত্রপত্রিকা বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশ দিয়েছেন—এমনটা জানতে পারেননি। তবে তিনি গুম থাকার সময় সেখানকার ‘সিনিয়র একজন’ তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসত।

টিএফআই সেলের এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন ১০ জন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ; কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে); লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। গতকাল তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন শেখ হাসিনা, তাঁর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।