এবার দেশের ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। এতদিন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আজকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা (নতুন প্রশাসক) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আসবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩, এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক (৩) অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।
নিয়োগ পাওয়া এই প্রশাসকদের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হওয়া অন্তত আটজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন, কুড়িগ্রাম–২ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের সাবেক এমপি, গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল–৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, ময়মনসিংহ–১ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, রংপুর–৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, গাইবান্ধা–৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বাগেরহাট–২ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং খুলনা–৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান।
এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় প্রশাসক হয়েছেন কুষ্টিয়া–৩ আসনের সাবেক এমপি সোহরাব হোসেন। আর ভোলায় প্রশাসক হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। তিনি প্রথমে ভোলা–১ আসনের বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে আসনটি বিএনপির জোটসঙ্গী বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গতকাল শনিবার পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তার আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এত দিন এসব পদ আমলা দিয়ে চলছিল।