সুনামগঞ্জে আট বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়িবাজারে সুনামগঞ্জ-দোয়ারবাজার সড়কে আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় ওই মানববন্ধন হয়।
আবদুল্লাহ আল মামুনকে গত বুধবার বিকেলে গ্রামের পাশের হাওরে কে বা কারা হত্যা করে লাশ ধানখেতে ফেলে রেখে যায়। তার মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়া থেকে শুক্রবার সকালে দেশে আসেন বাবা মোস্তাক আহমদ। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মোস্তাক আহমদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছেন। পরিবারের জন্য অনেক কষ্ট করছেন। দেশে তাঁর বাবা ও মা অসুস্থ। এলাকায় বা গ্রামে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। কে বা কারা, কী কারণে তাঁর এই মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করল, সেটি তিনি বুঝতে পারছে না। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সমাজকর্মী আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, স্থানীয় মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ, স্থানীয় পঞ্চগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম মো. খলিলুর রহমান, শিশু আবদুল্লাহ আল মামুমের বাবা মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।
ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ বলেন, একটি ছোট্ট শিশুর এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকার মানুষ ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। সবাই চান, যে বা যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবকেরাও চিন্তিত।
গত বুধবার বিকেলে প্রতিবেশী দুই শিশুর সঙ্গে হাওরে গিয়েছিল আবদুল্লাহ আল মামুন। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যায় হাওরে ধানখেতের পানিতে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। দোয়ারাবাজারের মান্নারগাঁও ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হাওর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মামুনের মাথায় পেছনের দিকে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ওই দিন বুধবার বিকেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের বাবা মোস্তাক আহমদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসুবকে ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর কোরিয়াপ্রবাসী মোস্তাক আহমদের ওই ভিডিওতে ছেলের জন্য আহাজারি করছিলেন। মোস্তাক আহমদ ভিডিওতে বলছিলেন, ‘আমার ছেলেটা কী সুন্দর পড়ত। কে মারল তারে। আমি ১২ ঘণ্টা, ১৩ ঘণ্টা পরিবারের লাগি বিদেশে কামলা দিই। আমার মা ও বাবা অসুস্থ। আমার ছেলের খুনিদের ধরার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের কাছে দাবি জানাই।’
মোস্তাক আহমদের মা, বাবা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মামুন সবার বড়, সে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।