
বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট পদের আসল বেতন কত, তা জানার কোনো ‘পাবলিক রেফারেন্স পয়েন্ট’ সেভাবে নেই। তাই চাকরিপ্রার্থীরা যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে ইচ্ছুক, সেখানকার বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আর বিড়ম্বনায় পড়েন। এর সমাধানেই যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম অ্যানোনিমাস স্যালারি ট্রান্সপারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ‘বেতন কেমন’।
প্ল্যাটফর্মটির প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ‘পে ট্রান্সপারেন্সি’ ব্যবস্থাকে প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর হাতের নাগালে নিয়ে আসা। যেখানে কোনো লগইন বা পরিচয় প্রকাশ ছাড়াই বিনা মূল্যে তথ্য দেবেন ও পাবেন ব্যবহারকারীরা। তাঁরা তাঁদের কোম্পানি, পদবি, অভিজ্ঞতা, বেতন এবং মাসিক বেতন পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখের তথ্য এখানে শেয়ার করবেন। ফলে যে কেউ যেকোনো কোম্পানির নাম লিখে সার্চ করলেই সেখানকার বেতন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।
প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ইশমাম চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণত প্রার্থীরা ইন্টারভিউতে ঢোকেন একটি অনুমান নিয়ে। আর “বেতন কেমন” সেই অনুমানটাকে একটা বাস্তব সংখ্যায় বদলে দেয়। যার পেছনে রয়েছে ওই পদে পূর্বে কাজ করা শত শত মানুষের অভিজ্ঞতা। বেতনের অস্বচ্ছতার আসল কারণ ইন্টারভিউয়ের শেষে করা বিব্রতকর প্রশ্নটি নয়, বরং মানুষের জীবনের সেই মাসগুলো, যা সঠিক তথ্যের অভাবে হারিয়ে যায়।’
ইশমাম চৌধুরী জানান, এই প্রজেক্টের প্রথম ভার্সনটি তৈরির পর ‘আইবিএ’ ও ‘বিবিএ’ কমিউনিটিতে শেয়ার করা হলে কয়েক দিনেই ২২৩টি এন্ট্রি জমা পড়ে এবং এই সময়েই বাংলাদেশের অন্যতম সক্রিয় ক্যারিয়ার কমিউনিটি ‘গ্রো ইয়োর ক্যারিয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা রাইয়ান এহাব শামসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। বর্তমানে এটি ইশমাম ও গ্রো ইয়োর ক্যারিয়ারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রো ইয়োর ক্যারিয়ার পেজে অফিশিয়াল লঞ্চের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি রিঅ্যাকশন এবং অনেক কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি ব্যাপক সাড়া পায়।
বেতন কেমন–এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রো ইয়োর ক্যারিয়ারের সিইও রাইয়ান এহাব শামস বলেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম কোডের ওপর নয় বরং কমিউনিটির ওপর ভিত্তি করে বেঁচে থাকে। বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থীরা যে অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য নিজের বেতনের তথ্য শেয়ার করছেন, তা প্রমাণ করে যে মানুষের ওপর ভরসাটা সব সময়ই ছিল। শুধু তা সঠিকভাবে চাওয়ার অভাব ছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যানোনিমিটি বা পরিচয় গোপন রাখাকে এর মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো আইপি বা ই–মেইল সংরক্ষণ না করায় কোন তথ্য কার তা ট্রেস করা অসম্ভব। ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সব সময় ফ্রি থাকবে, যাতে ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা তরুণেরা এর সুফল ভোগ করতে পারে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সার্চ সুবিধা এবং পিএফ, গ্র্যাচুইটি, ট্রান্সপোর্ট ও ফেস্টিভ্যাল বোনাসের মতো বেনিফিট ডেটা দেখার সুযোগ আছে। সামনের দিনগুলোতে ‘ইয়ার-অন-ইয়ার স্যালারি ভিউ’ এবং ‘এক্সপেরিয়েন্স লেভেল ব্র্যাকেটে’র মতো ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।