অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ভূমিকায় লিপ্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিও জানিয়েছে তাঁরা। গত শুক্রবার গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সাধারণ সভায় এসব দাবি জানান কমিটির সদস্যরা। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে।

সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জনসম্মতির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বেচ্ছাচারী তড়িঘড়ি ও অস্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বাণিজ্যচুক্তির তীব্র নিন্দা জানান গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যরা। সভায় তাঁরা বলেন, এ ধরনের চুক্তি দেশকে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলিত করা, অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্ত করার ষড়যন্ত্র যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ। অবিলম্বে নির্বাচিত সরকারকে এই অবৈধ চুক্তির পথ থেকে সরে আসতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের যে উপদেষ্টা জাতীয় স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তির মূল কারিগর, তাঁকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে নির্বাচনপরবর্তী বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা এবং হাতিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। সভায় বম জনগোষ্ঠীসহ মিথ্যা অভিযোগে দীর্ঘদিন নির্বিচার আটক থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এতে আরও বক্তব্য দেন উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের সংগঠক দীপা দত্ত, গবেষক মাহতাবউদ্দীন আহমেদ, লেখক চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, জয়দীপ ভট্টাচার্য, সদরুল হাসান রিপন, মহসিন আলী, নাজমুস সাকিব, শ্রমিকনেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস, ইকবাল কবীর, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা দীলিপ রায়, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, ছায়েদুল হক, আইনজীবী আলাউদ্দিন আহমেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান, রাফসান আহমেদ, অধিকারকর্মী মারজিয়া প্রভা ও ফখরুদ্দিন কবীর।