ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

বিটিসিএলের তিন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউসেটের মামলা

বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউসেট) ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, কর্মীদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) তিনজন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে গতকাল বুধবার মামলাটি করেন ইউসেটের উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আদেশ দিয়েছেন।

আজ ‎‎বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাদী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ সকালে তিনি আদালতের আদেশের বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

এ মামলায় আসামিরা হলেন বিটিসিএলের টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড ২) জয়িতা সেন রিম্পি, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবির কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ২) মো. শাহ আলম সিরাজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান মাসুদ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটের ডোমেইন নিয়ে আপত্তি এসেছে জানিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউসেটে চিঠি পাঠানো হয়। শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। ৩০ নভেম্বর ২৩ হাজার টাকা পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলে সেসব নেওয়া হয়নি। বলা হয়, ২৭ নভেম্বর নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেছে।

এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দুরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপের প্রতিকার এবং ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি আর ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে রিটটি করা হয়।

এরই মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর বিটিসিএল কার্যালয়ে জয়িতা সেনের কক্ষে যান। তখন জয়িতা তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং বিটিসিএলের বারান্দায় যেন কোনো দিন না দেখেন—সেই হুমকি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, জয়িতা সেন হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনের সনদ (ল ইয়ার্স সার্টিফিকেট) গ্রহণ করেননি।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ল ইয়ার্স সনদ গ্রহণ না করে দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ তাজুল ইসলাম তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে গত ১৮ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এর জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ১১ জানুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।