
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জনকে (নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকার ও আহত ব্যক্তি) ৪৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চেক হস্তান্তর করেন। বিআরটিএর সার্কেল-৩–এ এই আর্থিক সহায়তার চেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আইন অনুযায়ী নিহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যাওয়া ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হওয়া কিংবা আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকা ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে তিন লাখ টাকা করে। আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ থাকা ব্যক্তিদের এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির সাত উত্তরাধিকারীকে ৫ লাখ করে ৩৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন ফাতেমা আক্তার, মিলন তালুকদার, রাফি হাওলাদার, আফতাব উদ্দীন প্রমাণিক, আমজাদ হোসেন, কাকলী খাতুন ও মমেনা বেগম। আর তিন লাখ টাকা করে পেয়েছেন দুজন—আমিনা বেগম ও ফারজানা আক্তার। এক লাখ টাকা করে পেয়েছেন রোকেয়া বেগম ও ছোহরাব হোসেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিআরটিএর ঢাকা বিভাগের পরিচালক জামান ভূঁইয়া, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা) কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত কুমার দেবনাথ, সহকারী পরিচালক বশির উদ্দিন আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে, আর্থিক সহায়তা পেতে নির্ধারিত ফরমে দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। অনুসন্ধান কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দেবে।
প্রতিবেদন দাখিলের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ড আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে ‘প্রাপকের হিসাবে প্রদেয়’ চেকের মাধ্যমে টাকা দেবে। অর্থাৎ দুর্ঘটনার দুই মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব।
দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের দাবি মীমাংসার জন্য রয়েছে ১২ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড। বিআরটিএর চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে বোর্ডেরও চেয়ারম্যান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকেরা বোর্ডের সদস্য।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তদন্ত করে সুপারিশের জন্য ১৪ সদস্যের স্থায়ী কমিটি রয়েছে। ঢাকার বাইরে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমিটির প্রধান। বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালক সদস্যসচিব। পুলিশ, পরিবহনমালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে আছেন।