সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান

নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরতে চান সাকিব, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সুযোগ নেই বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী   

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেছেন, তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা চান তিনি। গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এমনটা বলেছেন।

 সাকিব বলেছেন, নিরাপত্তা পেলে তিনি দেশে ফিরে হত্যাসহ তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলায় আইনগতভাবে মুখোমুখি হতে এবং নিজের বিদায়ী সিরিজটি খেলতে চান।

 এ ব্যাপারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গতকাল এক বিবৃতিতে  জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপরে আর মনে হয় না যে ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।'

‎আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাকিবকে দেশে ফিরতে হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'যে (সাকিব আল হাসান) স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর কোনো সুযোগ নেই। সে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।’

 শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব আল হাসান। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা  সরকারের পতনের পর থেকে তিনি বর্তমানে স্ত্রী, তিন সন্তানসহ নিউইয়র্কের  লং আইল্যান্ডে বসবাস করছেন তিনি।

শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার ফাঁকে সেখান থেকে রয়টার্সকে ফোনে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবে আমি সানন্দে দেশে ফিরব। আদালতের মুখোমুখি হওয়াসহ যা যা করা প্রয়োজন, আমি সব করতে রাজি।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অপরাধ করিনি।’

 সাকিব রয়টার্সকে আরও বলেন,  তিনি এখনই দেশে ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই ফেরার চেষ্টা করবেন। নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে) যা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমার মনে হয়, তাঁরাই এ বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা তা-ই মেনে চলব।’

 গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন সাকিব। এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সাকিব বলেন, তিনি শুধু শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।

 সাকিব জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো ‘বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে সেগুলো প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। কোনো উত্তর পাননি।

 দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে বেশ আগ্রহী সাকিব। তবে রয়টার্স তারেক রহমানের এক মুখপাত্রের বরাতে জানায়,  একটি ‘পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের সদস্য’ হওয়ার ফল ভোগ করছেন সাকিব।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে সাকিব আল হাসানের জন্য আবার জায়গা তৈরি করতে বর্তমান সরকারের একেবারেই কিছু করার নেই।’

নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘পরিচয় বা পদবি যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন সবার জন্য সমান। আইনের চোখে সাকিব আল হাসান একজন আসামি। বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তাঁকে অবশ্যই বাংলাদেশের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’