
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) লো ফিডে (ধীরগতিতে) চালু থাকলেও তেল সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়বে না। কারণ, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভূমিকা রাখে ইআরএল। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) স্বল্পতার কারণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই লো ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও তেল সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়বে না। গত মাসে (মার্চ) নির্ধারিত সূচি অনুসারে ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় বর্তমানে ইআরএল লো ফিডে চালু রাখা হয়েছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ। তাই সূচি অনুসারে মার্চে ২ লাখ টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আনা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরব থেকে মার্চের প্রথম চালানে ১ লাখ টনের যে জাহাজ আসার কথা ছিল, সেটি রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজটি (নরডিক্স পোলাক্স) হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মার্চের দ্বিতীয় চালানের জাহাজটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে। তবে ১ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে ২০ এপ্রিল একটি জাহাজ রওনা করে বিকল্প পথে ২ থেকে ৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী মে মাসে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দিতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
ইআরএল মূলত সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল (এএলসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে। এরপর তা পরিশোধন করে দেশের বার্ষিক জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করে। বছরে ১৫ লাখ টন পরিশোধন করে তারা। বছরের শুরুতে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত দু–একটি কার্গো আমদানি করে ইআরএলের উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। দেশের চাহিদা অনুযায়ী, অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ব্যবহৃত ডিজেলের ১৫ শতাংশ এসেছে ইআরএল থেকে। কোনো অকটেন দেয়নি ইআরএল। আর পেট্রলের চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ সরবরাহ করেছে ইআরএল। এর বাইরে ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়।
জ্বালানি বিভাগ বলেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। তাই সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করছে। এতে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএলের উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে।