যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে: এনায়েত উল্যাহ

নিরাপদ সড়কের জন্য যথাযথ আইন, এর কার্যকর প্রয়োগ এবং সেই সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকদের সহযোগিতার কথা বলা হয়। এসবের সমন্বয় কতটা হয়, নিরাপদ সড়কের জন্য নানামুখী উদ্যোগের অবস্থা কী—এসব নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পার্থ শঙ্কর সাহা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ
 ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন

প্রথম আলো: নিরাপদ সড়কের জন্য নাগরিক সমাজের আন্দোলন দীর্ঘদিনের। এ জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে কতটুকু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

এনায়েত উল্যাহ: সমাজের অন্য সবার মতো মালিক ও শ্রমিকদের একান্ত চাওয়া নিরাপদ সড়ক। এ নিয়ে ১১১ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এই সুপারিশ তৈরিতে মালিক-শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ যানবাহনের দ্রুতগতি এবং পাল্লাপাল্লি করে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। ১১১ দফা সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যেসব বিষয় ছিল, তার মধ্যে আছে মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল বন্ধ করা, শ্রমিকদের সচেতনতা বাড়ানো, দুর্ঘটনার বেশি ঘটে এমন এলাকা বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: অভিযোগ আছে, সরকার নিরাপদ সড়কের যে কঠোর আইন করেছিল, আপনাদের বাধার মুখে তার সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনায়েত উল্যাহ: অভিযোগ আছে, কিন্তু এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। একটি আইনের দাবি কিন্তু কোনো আন্দোলনের ফলে হয়নি, এটা আমরাই দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। আমরা চেয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের আইনটি যুগোপযোগী করা হোক। সরকার আইন করার পর আমরা নামমাত্র কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ, সেখানে সংশোধনযোগ্য বিষয় ছিল। যেমন জরিমানা কমানোর বিষয়টি ছিল। শুধু জরিমানা করে তো সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হবে না; এর জন্য দরকার চালকদের প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত চালকের সরবরাহ। সেসব বিষয় তো নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: পরিবহন খাতের সঙ্গে আপনারা যাঁরা আছেন, তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। সরকারে প্রভাব খাটিয়েই আপনারা আইনটির কঠোর ধারা শিথিল করতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ আছে।

এনায়েত উল্যাহ: আইনে অনেক কিছুই থাকে, যা পালন করা সম্ভব হয় নয়। পথচারী নিয়ম ভেঙে সড়ক পার হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। এটা কি এ দেশের একজন শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে মেনে চলা সম্ভব? আমরা বারবার বলছি, মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। নয়তো তাদের আলাদা লেন করে দিতে হবে। চালকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় ১০ থেকে ১২ লাখ কম আছে। সে প্রয়োজন মেটাতে হবে।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, চালকের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ চালক নিয়োগদানের ক্ষেত্রে তো আপনাদের, অর্থাৎ মালিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কী করছেন?

এনায়েত উল্যাহ: ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল বন্ধ করতে আমরা সচেতন। কিন্তু কিছু লোক হয়তো সেটা মেনে চলে না, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। চালকের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের অনিয়মের শাস্তি কার্যকর করা যায় না। তারা দ্রুত অন্য জায়গায় চাকরি নেয়। সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে নতুন করে তিন লাখ চালক যুক্ত হতে পারে। আর দেশের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো চালকের প্রশিক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।