৬ মাস মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আমি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিই: টবি ক্যাডম্যান

ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান  
 ফাইল ছবি

ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক পদে তাঁর মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।

যোগাযোগ করা হলে আজ সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় প্রথম আলোকে এ কথা বলেছেন টবি ক্যাডম্যান।

এর আগে আজ বিকেলে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ফেসবুকে লেখেন, চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদ থেকে টবি ক্যাডম্যান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছেন টবি ক্যাডম্যান।

এরপর চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদে টবি ক্যাডম্যানের না থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, টবি ক্যাডম্যানকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকার প্রথমে এর মেয়াদ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করেছিল। টবি নিজেও সরকারকে অ্যাপ্রোচ করেছিলেন, তিনি এক্সটেনশন (মেয়াদ বৃদ্ধি) চান; কিন্তু ফাইনালি আইন মন্ত্রণালয় চিন্তা করে বলে দিল, যেহেতু তাঁদের মেয়াদ মাত্র কয়েক দিন আছে, এ মুহূর্তে আর নতুন করে কোনো অ্যাগ্রিমেন্টে (চুক্তি) যাবে না।

তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর বিশেষ পরামর্শক পদে টবি ক্যাডম্যানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তাঁর মেয়াদ শেষ হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে এক প্রশ্নের জবাবে টবি ক্যাডম্যান প্রথম আলোকে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ডেভিডকে (সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান) জানিয়েছিলাম, আমি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এর আগে আইন উপদেষ্টা ও চিফ প্রসিকিউটরকে জানানোর পর প্রধান উপদেষ্টাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। আমার নিয়োগ ছিল ১২ মাসের জন্য, যা নভেম্বর মাসে শেষ হয়। এরপর আমাকে ছয় মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি সেই নবায়ন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিই এবং পদত্যাগ করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করি।’

তবে চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদে না থাকার কারণ প্রথম আলোকে জানাননি টবি ক্যাডম্যান।

টবি ক্যাডম্যান লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা ৩৭ ল ফার্মের যুগ্ম প্রধান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যখন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছিল, সে সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছিল।

গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে এসেছিলেন টবি ক্যাডম্যান। তারপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।