ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেড়েছে। আজ রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে
ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেড়েছে। আজ রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে

ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন লোকজন। আজ রোববার ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন। গতকাল শনিবারের তুলনায় আজ রোববার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। তাঁরা বলছেন, যাত্রার ভোগান্তি এড়াতে কিছুটা আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন। এ ছাড়া সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় তাঁরা স্বস্তি প্রকাশও করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলস্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষের ভিড়। ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কথা হয় গৃহিণী আসমা বেগমের সঙ্গে। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছেন বনলতা এক্সপ্রেসে। তিনি বলেন, ‘ছেলেদের স্কুল ও কোচিং ছুটি। যত দেরি করব, তত ভোগান্তি। গতকালই যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজকের টিকিট পেয়েছি।’

৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ব্যবসায়ী ইউনুস আলী চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘একটু আগেভাগেই চলে এসেছি। রাস্তায় যানজট থাকে, তাই আগে আসাই ভালো। গতকাল শুনেছি ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে, আজ দেখব কী হয়।’

প্ল্যাটফর্মে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তাদের একজন জানাল, মাদ্রাসা ছুটি, তাই ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছে। কার সঙ্গে যাচ্ছে, তা জানতে চাইলে আঙুলের ইশারায় দূরে দেখিয়ে বলল, মামা। তাঁর নাম মূসা আল হাবিব। তিনি বলেন, ‘এরা সব আমার ভাইগ্না–ভাইস্তা। ঈদে বাড়ি যাচ্ছে। প্রতিবার এভাবেই আনন্দ করতে করতে যাই।’

দুপুর পর্যন্ত ট্রেনে কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। আজ রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে

কমলাপুর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। তবে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস দেরিতে ছেড়েছে। বেলা ২টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করার কথা থাকলেও ট্রেন স্টেশন ত্যাগ করেছে বেলা তিনটার দিকে। কিছু বগিতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদেরও যাত্রা করতে দেখা গেছে।