
পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ৪৩, ৪৪ ও ৪৮তম বিসিএসে বাদ পড়া প্রার্থীরা।
তাঁদের অভিযোগ, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পাওয়ার পরেও বৈষম্যমূলকভাবে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার গেজেট থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৪৩তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিত প্রার্থী কানজিলাল রয় জীবন। তিনি বলেন, ‘৪৩, ৪৪ ও ৪৮তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্ত ক্যাডাররা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চাকরিতে যোগদানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের কারণে তাঁদের চাকরিতে যোগদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও ৪৩তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ ও বাতিল নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর ২ হাজার ৬৪ জনকে গেজেটভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে নতুন গেজেট থেকে ২৫৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর সম্পূরক গেজেটে কয়েকজনকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এখনো ৬৫ জন প্রার্থী গেজেটবঞ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
কানজিলাল রয় জীবন অভিযোগ করে বলেন, ডিজিএফআই ও এনএসআই—এই দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্যের অমিল থাকায় অনেকের গেজেট আটকে রাখা হয়েছে। কোনো অপরাধমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও শুধু ‘জনশ্রুতির’ ভিত্তিতে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ৪৪তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জনকারী ব্যক্তিসহ মোট ২০ জন এবং ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ২৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বর্তমান সরকারের ‘মেরিটক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অঙ্গীকার এবং সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার ইতিবাচক দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করে প্রার্থীরা জানান, তাঁরাও একইভাবে রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।