চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেন তুর্কি নাবিক

প্রতীকী ছবি: বাসস
 প্রতীকী ছবি: বাসস

বাংলাদেশে জাহাজ নিয়ে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেন তুরস্কের এক নাগরিক। এক সপ্তাহ ধরে এই নাবিক নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বহির্নোঙরে থাকা অবস্থায় তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন।

তুর্কি এই নাগরিকের নাম হালিত আনলু। তাঁর বয়স ৪৫ বছর। মাল্টার পতাকাবাহী এমভি ওশেন সেঞ্চুরি নামে একটি জাহাজ নিয়ে তিনি গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে আসেন। জাহাজটি এখনো বঙ্গপোসাগরে বহির্নোঙরে রয়েছে। জাহাজটি ৫২ হাজার টন গম নিয়ে এ দেশে আসে।

২৫ আগস্ট জাহাজের এই নাবিক ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে নগরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম জাহেদের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ।

জানতে চাইলে এ এস এম জাহেদ বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। প্লাটিলেট ৫০ হাজারের নিচে চলে এসেছিল। এখন স্থিতিশীল রয়েছে। অনেকটাই সুস্থ।

এক প্রশ্নের জবাবে এ এস এম জাহেদ বলেন, কোনোভাবে এডিস মশার সংস্পর্শে এসে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। সেটা জাহাজেও হতে পারে। কারণ, ওই জাহাজের সঙ্গে ছোট জাহাজের যোগাযোগ রয়েছে। এতে করে মশা যেতেই পারে।

জাহাজমালিকের স্থানীয় প্রতিনিধি কে এস এম শিপিং লাইনস এখানে তাঁর চিকিৎসার দেখভাল করছে। হাসপাতালে স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে কে এস এম শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক কাজী আবদুল্লাহর নাম দেওয়া হয়েছে।

কে এস এম শিপিং লাইনস সূত্র জানায়, বহির্নোঙরে থাকা অবস্থায় এই নাবিক তীরে আসেননি। তবে মাদার জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস চলছে। লাইটারের মাধ্যমে মশা ওখানে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে কাজী আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তুর্কি এই নাগরিক এখন অনেকটাই সুস্থ। তাঁর সর্বোচ্চ উন্নত মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, বহির্নোঙরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কোনো না কোনো সংযোগ রয়েছে। লাইটার যাচ্ছে, শ্রমিক যাচ্ছে। ওভাবে কোনোভাবে মশা সেখানে পৌঁছেছে। তাই যে কেউ এভাবে আক্রান্ত হতে পারেন।