পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল
পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল

সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিলের পরিকল্পনায় হেফাজতের হত্যাকাণ্ড: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম বলেছেন ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তা পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মন্ডলের পরিকল্পনায় ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জনের মতো হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছেন। তাঁরা অনুসন্ধান করছেন আরও কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কি না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

এর আগে আজ দুপুরে সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মন্ডলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এই ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলায় গত বছরের ১৪ মে এই ট্রাইব্যুনাল আবদুল জলিল মন্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ মামলার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জলিল মন্ডলের বিরুদ্ধে অনেক আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেই মামলায় আজকে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব তাড়াতাড়ি যেন জমা হয় এবং পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল সাপেক্ষে এর বিচারকাজ শুরুর বিষয়ে তাঁরা তৎপর আছেন।

এ সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মন্ডল মূল কুশীলব বলছেন। তাঁর ভূমিকা কী ছিল। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মেইন ভূমিকা অনেক ছিল। তাঁর সার্বিক পরিকল্পনাতেই সব ঘটনা ঘটেছে—এ রকম তদন্তে আসছে। আর বেশি কিছু আমরা বলছি না এখন।’

শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে কত মানুষ মারা গেছেন—এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিদের তালিকাও আমরা অলমোস্ট পেয়েছি। আরও আমরা অনুসন্ধান করছি আরও আছে কি না। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আপনারা ইনশা আল্লাহ পেয়ে যাবেন। আগামী তারিখের মধ্যে (৫ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য আছে)।’

ওই সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেন, যে তালিকা পেয়েছেন, সেখানে কতজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘১৫-২০ জন হতে পারে।’