
জাকাত, সাদাকা, ওয়াক্ফ এবং কর্জে হাসানার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন’। গত শনিবার ঢাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট আলেম, অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য দেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। তিনি বলেন, পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি টেকসই পথ তৈরি করতে পারে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি ও অ্যাডভাইজারি বোর্ডের সদস্য—মুহাম্মদ রাশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন, মুর্তজা জামান, মুহাম্মদ জুনায়েদুল মুনির, আরিফ বিন ইদ্রিস, কামরুজ্জামান, মো. জুলফিকার আলী সিদ্দিকী, আসিফ সাদ বিন শামস, সৈয়দ সাদিক রেজা, রেজা আহমেদ এবং আরিফুর রহমান।
‘বাংলাদেশে জাকাত আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ড. ওমর ফারুক, ড. আবুল কালাম আজাদ ও শাহ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ। তাঁরা জানান, দেশে বার্ষিক প্রায় এক লাখ কোটি টাকার জাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাবে তার সুফল মিলছে না। এ ছাড়া করপোরেট জাকাত বিষয়ে বক্তব্য দেন আইএফএ কনসালট্যান্সির পরিচালক ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান।
ফাউন্ডেশনের সব কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত কি না, তা নিশ্চিতে ড. মোহাম্মদ মানজুর ই এলাহির নেতৃত্বে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক ও মুফতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম।
বর্তমানে লালমনিরহাট, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সংস্থাটির কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৫৯টি পরিবার এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। ১ হাজার ৪২৬টি চক্ষু অস্ত্রোপচার, ২৫ হাজার ১১৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ৪১১ শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (www.givinggrace.org.bd) উদ্বোধন করা হয়।