ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহকে হত্যার ঘটনায় তাঁর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আজ রোববার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলি এ তথ্য জানান।
জিন্নাত আলি বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। সে জন্য আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
২৯ বছর পর গত ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁরই ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলা দায়ের করেন। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এজাহার গ্রহণ করে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
রমনা থানায় করা মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
সালমান শাহের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।
তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেছিলেন।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য পাঠান আদালত। ২০১৪ সালের আগস্টে সেই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তাতে হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তাঁর ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
মামলাটি এরপর তদন্ত করে র্যাব। রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের আগস্টে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত র্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
সেখানেও বলা হয়, ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ ও জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে নীলা চৌধুরী আরও তদন্তের দাবি তোলেন। এর মাঝেই ২০২১ সালের অক্টোবরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেন।
এ পরিস্থিতিতে সালমান শাহের পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়। ২০২২ সালের জুনে আদালত আবেদন গ্রহণ করেন। তবে শুনানি হয়নি। গত অক্টোবরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।