রোহিঙ্গা শিশুদের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে
রোহিঙ্গা শিশুদের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে

রোহিঙ্গা শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সনদ পাচ্ছেন ১১০০–এর বেশি শিক্ষক

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নের পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো শরণার্থীশিবিরগুলোর ১ হাজার ১০০–এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক সনদ পেতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের দক্ষতার স্বীকৃতির পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে রোহিঙ্গা শিশুদের শেখার প্রক্রিয়া জোরদার হচ্ছে।

ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সরকার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সহযোগিতায় এই সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন আজ বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। গত দুই বছরে কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক ও মাস্টার ট্রেইনাররা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এটা শুধু একটি সনদ নয়, এটা ক্ষমতায়নের একটি প্রতীক। এটার মধ্য দিয়ে আপনারা পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাবেন, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।’

স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তিন মাসব্যাপী ছিল উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেখানে মোট ১৭৬ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, বার্মিজ ভাষাসহ মিয়ানমারের পাঠক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১১৮টি মডিউল নিয়ে এখানে আলোচনা হয়।

এখানে সরাসরি পাঠদান, সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা (পিয়ার এনগেজমেন্ট) এবং শ্রেণিকক্ষে হাতে-কলমে অনুশীলনের সমন্বয় ছিল। পুরো প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করা হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গাভুয়া বলেন, ‘প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুর জন্য শুধু শিক্ষার সুযোগ নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষালাভের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সনদ প্রদান।’ তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের জন্য বিনিয়োগ করে আমরা একটি পুরো প্রজন্মের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করছি, যে শিশুরা ইতিমধ্যে তীব্র বাধাবিঘ্ন ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।’

নিপীড়ন-নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষাই হলো সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ উল্লেখ করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমদ বলেন, ‘যেকোনো শিক্ষা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা অবশ্যই কার্যকর হতে হবে। হতে হবে সহানুভূতিশীল মানসিকতা তৈরির মাধ্যম। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের আশান্বিত করছে যে শরণার্থীশিবিরগুলোতে শিক্ষা এমনভাবে উন্নত হবে যে সেটা আবার আশার সঞ্চার করবে।’