
ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন অত্যাচার ও নিপীড়নের ঘটনায় মূলধারার পশ্চিমা নারীবাদীদের মৌনতা ও পরোক্ষ সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ৬৮ জন নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষক ও গবেষক। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ নিযুক্ত তদন্ত কমিশন ছাড়াও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেটসেলেম, দ্য প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদন থেকে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিয়মিত ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, উলঙ্গ করে রাখা, গোপনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং কুকুর দিয়ে আক্রমণের মতো অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
নারী অধিকারকর্মীরা গাজার আল-শিফা হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি এবং গাজা চেক পয়েন্ট থেকে আটক এক নারীর ওপর চালানো ভয়াবহ যৌন সহিংসতার সাক্ষ্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ইসরায়েলের ‘স্টে টেইমান’ টর্চার ক্যাম্পে বন্দীদের ওপর চালানো এসব বর্বরতা সিসিটিভি ফুটেজেও প্রমাণিত হয়েছে। অথচ ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা এবং সমাজের একটি অংশ এই নির্যাতনকে সমর্থন দিচ্ছে, যা চরম নৈতিক স্খলন।
বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের এই অংশীজনেরা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরায়েলি নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠনগুলো সরব হলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের বিষয়ে তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। বিবৃতিতে বলা হয়, এই নীরবতা ও দ্বিচারিতা পশ্চিমা নারীবাদীদের বর্ণবাদী চরিত্রকে উন্মোচন করেছে। যে নারীবাদ বর্ণ ও জাতিগত আধিপত্যের ভিত্তিতে আলাদা অবস্থান নেয়, তা প্রকৃত নারীবাদ হতে পারে না, বরং এটি যুদ্ধাপরাধে মদদ দেওয়ার শামিল। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় পুরো জাতিকে ‘অপরাধী’ হিসেবে চিত্রায়িত করে তাদের ওপর নিপীড়ন বৈধ করার চেষ্টা করে। পিতৃতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে নারী আন্দোলনকারীরা মনে করেন, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা নিপীড়িতের মুক্তিসংগ্রামকে সব সময় উপেক্ষা করে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা ইসরায়েলি কারাগারে সংঘটিত প্রতিটি যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং ফিলিস্তিনিদের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ৬৮ জন হলেন রোজীনা বেগম, কাজলী সেহরীন ইসলাম, মারজিয়া প্রভা, দীনা সিদ্দিকী, প্রাপ্তি তাপসী, সুস্মিতা পৃথা, মোসা. সুমাইয়া (শিকদার), ফেরদৌস আরা রুমী, সায়দিয়া গুলরুখ, ফাতেমা শুভ্রা, খুশি কবির, তন্বী নওশীন, মোশাহিদা সুলতানা, শ্যামলী শীল, গীতি আরা নাসরীন, মাহীন সুলতান, ফাজিলা বানু লিলি, সাদিয়া আরমান, ফেরদৌস আজীম, ইলিরা দেওয়ান, নাসরিন খন্দকার, সাদিয়া চৌধুরী, সায়েমা খাতুন, ঋতু সাত্তার, ইসাবা শুহরাত, তাসলিমা আখতার, আনমনা প্রিয়দর্শিনী, ইলোরা হালিম চৌধুরী, সাদিয়া মরিয়ম, সালমা আলী, বীথি ঘোষ, পদ্মিনী চাকমা, কামরুন নাহার, লায়লা পারভীন, স্নিগ্ধা সুলতানা, সাফিয়া আজীম, ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, জান্নাতুল মাওয়া, সীমা দত্ত, দিলশাদ সিদ্দিকী, আতিকা রোমা, আইনুন নাহার, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, নাজনীন শিফা, সামিনা লুৎফা, রওশন আরা মুক্তা, মিথিলা মাহফুজ, রাকিবা আমাতুল করিম, তামান্না মাকসুদ, শার্মিন্দ নিলোরমী, ইলোরা শিহাব উদ্দিন, মুক্তাশ্রী চাকমা, নাজিফা তাসনিম খানম তিশা, মন্টি চাকমা, রুম্মানা জান্নাত, সাদাফ নূর, সালমা আবেদীন পৃথি, হানিয়্যুম মারিয়া খান, তাসনিম আজীম, সামিয়া রহমান প্রিমা, রেবেকা নীলা, মাহরুখ মহিউদ্দিন, ফরিদা খান, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, মাহফুজা হক নীলা, ওয়ার্দা আশরাফ, হানা আহমেদ ও রেহনুমা আহমেদ।