আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

মেনন-কামরুলের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু, জবানবন্দি দিলেন এক সাক্ষী

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ মঙ্গলবার এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ।

সূচনা বক্তব্যে বি এম সুলতান মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সান্ধ্য আইন জারির সময় এই দুই আসামির প্ররোচনা ও নির্দেশনা ছিল। তাঁদের সম্পৃক্ততায় আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হতাহতের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় ২৩ জন আন্দোলনকারী হত্যায় তাঁদের সম্পৃক্ততা ছিল।

এই মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সূচনা বক্তব্যের পর এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জুলাই আন্দোলনকারী মো. সাকিব আহম্মেদ (২৬)। ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর তিনি, মারুফ, ফয়সাল ও রাজীব ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিছিল অংশগ্রহণ করেন। সেদিন বিকেলে রামপুরা ব্রিজের দিক থেকে আসা গুলির প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান। সে সময় মারুফকে রাস্তার পাশে ফুটপাতের ওপর পড়ে যেতে দেখেন তিনি। পরে তিনি দেখেন, মারুফের তলপেটের ডান পাশে গুলি লেগেছে। মারুফ তাঁকে বলে, ‘মামা, আমার গুলি লেগেছে, আমাকে বাঁচাও।’ সেদিন অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারুক মারা যান। তারপরও তাঁরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা মারুফকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাকিবের সাক্ষ্য অসমাপ্ত রয়েছে। ২৯ জুন তাঁর বাকি সাক্ষ্য গ্রহণ হবে।

এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা ও আশপাশ এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।