সুন্দরবন-সংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামে কামরুল ইসলামের বাড়ির ছাদ থেকে একটি পাইপ নেমেছে পানির ট্যাংকে। বর্ষায় ছাদে পড়া পানি ওই পাইপ দিয়ে ট্যাংকে জমা হয়। সেই পানি রান্না, খাওয়া ও পরিবারের অন্যান্য কাজে ব্যবহার করেন তাঁরা। ‘এখানে মিঠাপানির খুব কষ্ট। বর্ষার সময় বৃষ্টি হলে যতটা সম্ভব পানি ধরে রাখি। একবার ট্যাংক ভরে গেলে সেই পানি কয়েক মাস চলে। অনেক সময় পাঁচ-ছয় মাস পরও ট্যাংকের পানি শেষ হয় না’, বলেন কামরুল ইসলাম।
উপকূলের লবণাক্ত এলাকার বহু পরিবারের কাছে বৃষ্টির পানি এভাবেই কয়েক মাসের ভরসা। কিন্তু পানি দেখতে পরিষ্কার হলেও তা কি নিরাপদ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের সাম্প্রতিক জরিপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণা বলছে, সংকটটি শুধু লবণাক্ততার নয়; নলকূপ ও অন্য উৎসের পানিতে আর্সেনিক ও মলজাতীয় জীবাণু রয়েছে। আবার লবণাক্ত পানির বিকল্প হিসেবে সংরক্ষণ করা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি থাকলে জীবাণু ও সিসায় দূষিত হতে পারে।
কামরুল বলেন, ‘পানি পরিষ্কার দেখলে আমরা খেয়ে নিই। জীবাণু তো চোখে দেখা যায় না। কখনো পানি পরীক্ষা করাইনি।’ তাঁর ভাষ্য, নিয়ম করে ট্যাংক পরিষ্কার করা হয় না। পানি শেষ হলে বা ভেতরে ময়লা দেখা দিলে পরিষ্কার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের মাঝেমধ্যে পেটের সমস্যা, পাতলা পায়খানা বা বমি হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের সাম্প্রতিক জরিপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণা বলছে, সংকটটি শুধু লবণাক্ততার নয়; নলকূপ ও অন্য উৎসের পানিতে আর্সেনিক ও মলজাতীয় জীবাণু রয়েছে। আবার লবণাক্ত পানির বিকল্প হিসেবে সংরক্ষণ করা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি থাকলে জীবাণু ও সিসায় দূষিত হতে পারে।
বিবিএস ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পানির মানের সর্বশেষ বড় চিত্র পাওয়া যায়। জরিপটি হয়েছে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন। এতে ৬১ হাজার ২০৭টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পানির গুণমান পরীক্ষা হয় ৬ হাজার ১০৬টি পরিবারে। প্রকাশিত হিসাব বিভাগভিত্তিক। তাই খুলনা বিভাগের ফল দিয়ে কোনো জেলার আলাদা হার বলা যাবে না। তবে এখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ সংকেত পাওয়া যায়।
এমআইসিএসের পরীক্ষায় খুলনা বিভাগের ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষের ব্যবহৃত উৎসের পানিতে ই কোলাই (একধরনের ব্যাকটেরিয়া) পাওয়া গেছে। ঘরে পান করা অবস্থায় এই জীবাণু ছিল ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের পানিতে। গবেষকেরা বলছেন, উৎস থেকে পানি সংগ্রহ, বহন ও সংরক্ষণের পথে দূষণ ঘটতে পারে। তবে উৎস ও ঘরের পানির দুই হারের ব্যবধান দিয়ে দূষণের নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করা যায় না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শামীম আহমেদ বলেন, লবণাক্ততা ও আর্সেনিক—দুটিই বড় সমস্যা। খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা; বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে নিরাপদ পানির সংকট বেশি। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেও সরকার নিরাপদ পানি সরবরাহে কাজ করছে।
পানি পরিষ্কার দেখলে আমরা খেয়ে নিই। জীবাণু তো চোখে দেখা যায় না। কখনো পানি পরীক্ষা করাইনি।কামরুল ইসলাম, কয়রার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম মোড়ল এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আর্সেনিকের ক্ষত। আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। একসময় হাতের তালু শক্ত হয়ে যায়। আর্সেনিকজনিত অসুস্থতায় তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী, দাদি, চাচিসহ পরিবারের অনেক সদস্য মারা গেছেন।
আর্সেনিক ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দূষিত নলকূপগুলো ভেঙে ফেলতে বলেছিলেন। গ্রামের মানুষ তা করলেও নিরাপদ পানির সংকট কাটেনি। শফিকুল বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কোথাও পানি লবণাক্ত, আবার কোথাও নিরাপদ পানি আনতে যেতে হয় অনেক দূরে। বাধ্য হয়ে দরিদ্র মানুষ কখনো নলকূপের, কখনো পুকুরের পানি ব্যবহার করেন।
জরিপ অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের উৎসের পানিতে আর্সেনিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত সীমা প্রতি লিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম বা ১০ পিপিবি। বাংলাদেশের প্রতি লিটারে ৫০ মাইক্রোগ্রাম সীমার বেশি ছিল ১০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের উৎসে। একই জরিপে খুলনা বিভাগের ১০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের উৎসে মাঝারি এবং ৩ দশমিক ৮ শতাংশের উৎসে উচ্চমাত্রার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।
উন্নত উৎস বাড়ির প্রাঙ্গণে থাকা, প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া, উৎসের পানি ই কোলাইমুক্ত হওয়া এবং আর্সেনিক ১০ পিপিবির মধ্যে থাকা—এই শর্তগুলো একসঙ্গে ধরলে খুলনা বিভাগের মাত্র ১৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ নিরাপদ ব্যবস্থাপনার খাওয়ার পানির আওতায়। বাংলাদেশের ৫০ পিপিবি আর্সেনিক মান ধরলেও হারটি ২০ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু উৎসের ধরন দেখে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এমআইসিএসের পরীক্ষায় খুলনা বিভাগের ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষের ব্যবহৃত উৎসের পানিতে ই কোলাই (একধরনের ব্যাকটেরিয়া) পাওয়া গেছে। ঘরে পান করা অবস্থায় এই জীবাণু ছিল ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের পানিতে।
খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের ৩৯টি ইউনিয়ন নিয়ে আরেকটি গবেষণা হয়েছে। ইউটিলিটিজ পলিসি সাময়িকীতে ২০২৬ সালে প্রকাশিত গবেষণাটির জন্য ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬৬ হাজার ২৩৪টি পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়। গবেষকেরা ৬৬৬টি কমিউনিটি নলকূপ ও ২২৪টি পুকুরের পানির লবণাক্ততাও পরীক্ষা করেন।
নলকূপের পানিতে গড় মোট টিডিএস (দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ) ছিল প্রতি লিটারে ১ হাজার ৭৩৩ মিলিগ্রাম; পুকুরে ছিল ১ হাজার ৩৩০ মিলিগ্রাম। দুটি গড়ই বাংলাদেশের প্রতি লিটারে ১ হাজার মিলিগ্রাম মানের ওপরে। পরীক্ষিত নলকূপের ২৭ শতাংশ এবং পুকুরের ৪৮ শতাংশের পানি ওই মানের মধ্যে ছিল। টিডিএস পানিতে দ্রবীভূত লবণ ও খনিজের একটি সূচক। এমআইসিএসের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতার সূচকের সঙ্গে একে সরাসরি তুলনা করা যাবে না।
৫ উপজেলায় বছরে গড়ে ৪ দশমিক ৬৫ মাস নির্ভরযোগ্য পানি পাওয়া যায় না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পাইকগাছায় সময়টি ৭ দশমিক ১৫ মাস, কয়রায় ২ দশমিক ৮৪ মাস। পরিবারে মাত্র ১৬ শতাংশের নিজস্ব খাওয়ার পানির উৎস আছে। প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে পানি আনার দায়িত্ব নারী ও কিশোরীদের। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ খাওয়ার পানির পেছনে ব্যয় করতে হয়।
গবেষক তাসনিম চৌধুরী ফাহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের প্রভাষক। তিনি বলেন, ‘পানির মান তো খারাপই। এক ঘড়া পানি আনতে উপকূলের নারীদের কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখছি না।’
৫ উপজেলায় বছরে গড়ে ৪ দশমিক ৬৫ মাস নির্ভরযোগ্য পানি পাওয়া যায় না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পাইকগাছায় সময়টি ৭ দশমিক ১৫ মাস, কয়রায় ২ দশমিক ৮৪ মাস। পরিবারে মাত্র ১৬ শতাংশের নিজস্ব খাওয়ার পানির উৎস আছে। প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে পানি আনার দায়িত্ব নারী ও কিশোরীদের। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ খাওয়ার পানির পেছনে ব্যয় করতে হয়।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার বাসিন্দা সরস্বতী মুন্ডার কাছে একসময় বৃষ্টির পানি ছিল কয়েক মাসের নিরাপত্তা। বাড়িতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা হওয়ার আগে দূরের একটি মিঠাপানির পুকুর থেকে পানি আনতে হতো তাঁকে। পরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক পাওয়ায় সেই কষ্ট অনেকটাই কমেছে।
সরস্বতী বলেন, ‘আগে পানি আনতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন বৃষ্টি হলে বাড়িতেই পানি জমিয়ে রাখি। একবার পানি ধরে রাখতে পারলে কয়েক মাস আর বাইরে যেতে হয় না।’
ভালোভাবে পানি জমাতে পারলে কখনো সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত চলে বলে জানান সরস্বতী। কেউ পলিথিন দিয়ে বৃষ্টির পানি ধরেন, কেউ টিনের চাল থেকে ট্যাংক বা ড্রামে জমা করেন। পানি পরিষ্কার দেখালে তাঁরা সাধারণত নিরাপদ মনে করেন। স্বাদ বা গন্ধে সমস্যা হলে তা পান করেন না।
লবণাক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। তবে দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নে করা নতুন একটি গবেষণা দেখিয়েছে, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ঠিক না হলে এই পানিও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এনভায়রনমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি সাময়িকীর অনলাইনে গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এতে ১১৬টি পরিবারের ওপর জরিপ করা হয়েছে। ড্রাম বা কলস, ব্যক্তিগত ট্যাংক, যৌথ ট্যাংক ও আরসিসি ট্যাংক—এ চার ধরনের সংরক্ষণব্যবস্থা থেকে ৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বর, পানি দুই থেকে তিন মাস সংরক্ষণের পর।
পানির মান তো খারাপই। এক ঘড়া পানি আনতে উপকূলের নারীদের কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখছি না।গবেষক তাসনিম চৌধুরী ফাহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের প্রভাষক
সব ধরনের সংরক্ষণব্যবস্থায় মলজাতীয় কলিফর্ম ও মোট কলিফর্ম গ্রহণযোগ্য সীমার ওপরে ছিল। সিসা পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক শূন্য ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৩৩ মিলিগ্রাম। ড্রাম বা কলস, ব্যক্তিগত ট্যাংক ও আরসিসি ট্যাংকের গড় নমুনায় সিসা ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশের মানের বেশি। আরসিসি ট্যাংকের নমুনায় সিসা, লোহা ও দুই ধরনের কলিফর্ম সবচেয়ে বেশি ছিল; যৌথ ট্যাংকের নমুনায় তুলনামূলক কম।
গবেষকেরা বলছেন, ছাদে ব্যবহৃত সিসাযুক্ত রং একটি সম্ভাব্য উৎস। তবে উৎস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় প্রমাণ করা হয়নি যে রং থেকেই সিসা পানিতে গেছে। পুরোনো পাইপ, পানি সংগ্রহ বা সংরক্ষণব্যবস্থার উপকরণও ভূমিকা রাখতে পারে। জীবাণু ঢোকার সম্ভাব্য পথ হিসেবে ছাদের ধুলা, পাখি বা প্রাণীর মল, বৃষ্টির প্রথম প্রবাহ সরানোর ব্যবস্থা না থাকা এবং ট্যাংক যথাযথভাবে পরিষ্কার না করার কথা বলা হয়েছে।
জরিপে ৫৯ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, পান করার আগে তারা পানি পরিশোধন করে না। ৯১ শতাংশ পরিবার সারা বছরের প্রয়োজনের পানি ধরে রাখতে পারে না; গড় সংরক্ষণকাল ছিল ৪ দশমিক ৭ মাস। পানি পরিশোধন না করা পরিবারে ডায়রিয়ার আশঙ্কা ২ দশমিক ৪১ গুণ এবং পেটের অন্য সমস্যার আশঙ্কা ২ দশমিক ১৮ গুণ পাওয়া গেছে।
আগে পানি আনতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন বৃষ্টি হলে বাড়িতেই পানি জমিয়ে রাখি। একবার পানি ধরে রাখতে পারলে কয়েক মাস আর বাইরে যেতে হয় না।শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার বাসিন্দা সরস্বতী মুন্ডা
দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুদীপ বালা বলেন, মার্চ থেকে মে মাসে হাসপাতালে পানিবাহিত রোগী তুলনামূলক বেশি আসে। তাঁর চিকিৎসা-অভিজ্ঞতায় নারীদের সাদা স্রাবের অভিযোগও নিয়মিত পাওয়া যায়। তাঁর ধারণা, লবণাক্ত পানির দীর্ঘ সংস্পর্শের সঙ্গে এ সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
আইসিডিডিআরবি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের যৌথ গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে উপকূলের দুই উপজেলায় হৃদ্রোগের ঝুঁকির চিত্রও উঠে এসেছে। খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনির ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তাঁদের ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্তত ১০ শতাংশ—যাকে গবেষকেরা মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। কয়রায় এই হার ১৯ দশমিক ৭ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদ বলেন, খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততা এবং একই জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদ্রোগের ঝুঁকির উচ্চ হার—দুটি বিষয়ই গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এই প্রাথমিক ফলাফল লবণাক্ত পানিকে সরাসরি হৃদ্রোগের কারণ হিসেবে প্রমাণ করে না। পানির সোডিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।