
‘দিন দিন যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়তেছে, সেভাবে তো আর আমাদের ইনকাম বাড়ে না। হিমশিম খেতে হয় আমাদের। বড়লোকদের তো আর কিছু হয় না। ধনীরা আরও ধনী হয়, আর গরিবেরা আরও গরিব হয়।’ কথাগুলো বলছিলেন মোস্তফা সরদার। তিনি রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী।
গতকাল রোববার বিকেলে কথা হয় মোস্তফা সরদারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, দুই মাস আগে ভোলা থেকে ঢাকায় এসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন তিনি। মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পান। থাকা-খাওয়া ভবনমালিকের।
একসময় ইটের ভাটায় সরদার হিসেবে কাজ করতেন উল্লেখ করে মোস্তফা সরদার বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে সবকিছু মোটামুটি ভালোই চলত। কখনো কারও কোনো সাহায্য নেননি। কিন্তু অসুস্থ হওয়ায় কাজ ছেড়ে দেন। একটি ঘর দিতে গিয়ে ঋণ করেন। সেই ঋণ পরিশোধ করতে ঢাকায় আসেন। দুই ছেলে ঢাকার দুটি কারখানায় কাজ করেন। তবু সংসার চালিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না।
মোস্তফা সরদার আক্ষেপ করে বলেন, তিনি কখনো পরিবার ছাড়া ঈদ করেননি। জানতে পেরেছেন, এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় ছুটি পাবেন না। তারপরও অনেকের তুলনায় সব মিলিয়ে ভালোই আছেন উল্লেখ করে মোস্তফা সরদার বলেন, ‘তবে কখনো ভাবিনি পরিবার ছাড়া থাকব, ঈদ করব। একটু কষ্ট হচ্ছে, তবু কিছু করার নেই। থাকতে তো হবেই।’
‘সংসার কোনোরকমে চলছে’
২৬ বছর ধরে রাজধানীর ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ দোকানে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করেন কামাল হোসেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারে। থাকেন আগারগাঁওয়ের একটি মেসে। বর্তমানে তেজগাঁও কলেজের সামনে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করেন। গতকাল বিকেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যে আয় হয়, সেটি দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে বলে জানান কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘সংসারের সব চাহিদা তো মিটে না। মা, ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী মিলে পাঁচ সদস্যের পরিবার। এই ব্যবসা দিয়েই আমাদের সবকিছু।’
স্কুল ছেড়ে ফুচকার দোকানে
গ্রিন রোডে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ফটকের পাশে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে ফুচকা ও ভেলপুরি বিক্রি হয়। সেই দোকানের কর্মী কিশোর রিফাত মিয়া। মাসে বেতন ছয় হাজার টাকা। দোকানটির মালিক হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। গতকাল বিকেল চারটার দিকে তিনি দোকানে ছিলেন না। তখন সেটি রিফাত একাই সামলাচ্ছিল।
রিফাতের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের দামপাড়া গ্রামে। গত বছরও পড়াশোনায় ছিল এই কিশোর। কিন্তু পরিবারের জন্য তাকে ঢাকায় আসতে হয়। রিফাত জানায়, বাবা নেই। বাড়িতে মা, ছোট ভাই ও বোন আছে। বড় এক ভাইও ঢাকায় চাকরি করেন।
রিফাত মিয়া বলে, ‘নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। পরিবারে নানান সমস্যা, টাকাপয়সা দরকার। তাই পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। এক ভাইয়ের ইনকামে সবার খরচ তো চলে না। তাই ঢাকায় চলে আসি। এখন এই দোকানে আছি।’