আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা

সম্মেলনে বক্তারা

নারী–পুরুষ বৈষম্য নিরসনে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হতে হবে

নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য নিরসনে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হতে হবে। শিক্ষায় নারীকে এগিয়ে আনতে হবে। পরিবারে কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সের থ্রিডি গ্যালারি হলে খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) আয়োজিত এক সম্মেলনে এ কথা বলেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬–এর প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’–কে সামনে রেখে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক বৈষম্য, জলবায়ু সংকট, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীর বহুমাত্রিক প্রান্তিকতার অনুসন্ধান, তা থেকে উত্তরণের পথ নির্ধারণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সম্মেলনে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন) উম্মে সালমা, জাতীয় আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা, নারীপক্ষের সদস্য আইনজীবী কামরুন নাহার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার।

নারী এবং আর্থিক প্রান্তিকতা নিয়ে অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ‘কৃষক বলতে আমরা যেভাবে পুরুষ কৃষককে স্বীকৃতি দিই, তাঁর স্ত্রী যে মাঠে কাজ করছেন, সেইটা আমরা স্বীকৃতি দিই না। আমরা যদি কর্মজীবী নারীর ক্ষেত্রেও দেখি, একটি বিশেষ পর্যায়ের পর তাঁর বেতন আর বাড়ে না। অথচ নারীরা সবচেয়ে বেশি কর দেন। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বিভাগ কখনোই নারী ও পুরুষের উপাত্ত আলাদাভাবে প্রকাশ করে না।’

জলবায়ু সংকট ও নারীর বহুমাত্রিক প্রান্তিকতা নিয়ে উম্মে সালমা বলেন, জলবায়ু অভিযোজন তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা নারীরা তা নিয়ে কাজ করবেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা

পরিচয়ের রাজনীতি ও নারীর জাতিগত প্রান্তিকতার প্রশ্ন সম্পর্কে ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের সময় তিন মাস বাসা থেকে বের হতে পারিনি, আমাদেরকে রোহিঙ্গা বলে গালি দেওয়া হয়েছে, আমাদের অশ্লীল কথা বলা হয়েছে। আমাদের চেহারার ধরন নিয়ে এই ধরনের কথা আমাদের শুনতে হয়। আদিবাসী নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে মামলা নেওয়াতে গাফিলতি করা হয়। এমনকি ভুক্তভোগী বাংলা ভাষায় স্বচ্ছন্দ না থাকার কারণে মামলার এজাহারও দুর্বল করা হয়।’

নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, যে ইতিহাসের পথ ধরে নারী দিবস, এখনো সেই পথটা দুর্গম। অধিকারের জায়গায় কাজ করতে চাইলে সবার প্রথমে সংবিধানে যে ত্রুটি আছে, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। নারী–পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্যমূলক বিধান, ধর্মীয় অনুশাসনের বাধ্যবাধকতার বিধান পরিবর্তন করতে হবে।

সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন সিসিডিবির কমিশন চেয়ারপারসন ডেভিড এ হালদার। সমাপনী বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য ও নারীনেত্রী গীতা দাস।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, ১৯৭৩ সালে সিসিডিবি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৯টি জেলার ১১টি প্রকল্পে বর্তমানে কাজ করছে সিসিডিবি। ৬১ হাজার নারী নিয়ে সিসিডিবির ১ হাজার ২৩টি ফোরাম রয়েছে। সিসিডিবি শুধু ক্ষমতায়ন নয়, সামাজিক বিভিন্ন কাজে নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে এবং সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখে।