
একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ‘পরিকল্পনা’ ও ‘সম্পূর্ণ কার্যপদ্ধতি’র (টোটাল মেকানিজম) সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আরও যদি কোনো সাংবাদিক জড়িত থাকেন, তাঁরাও আসবেন।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল–১। এরপর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর।
ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আজকে দুজন সাংবাদিক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, এই ঘটনায় সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্ট থাকার কোনো কারণ নেই। তাঁরা তো নিউজ করেছেন। তাহলে এখন যাঁরা নিউজ করছেন, পরবর্তী সময়ে তাঁরাও তাহলে এ ধরনের আসামি হতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি (আইনজীবী) ব্যঙ্গ করে বলেছেন, সারা দেশে তো প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মুরগি চুরি হয়। তাহলে এগুলো তো ওয়াইড স্প্রেড (ব্যাপক মাত্রায়) ও সিস্টেম্যাটিক (পদ্ধতিগত) হচ্ছে কি না, সেগুলো কি এখানে আনা হবে কি না, এই প্রশ্ন রেখেছেন।’
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা অপরাধের বিচার করি।…অপরাধী কে, কোন পেশার, সেটা দেখার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। আপনার যে কথাটা আপনি বলছেন, কোনো সাংবাদিক যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তিনি কি বিচারের আওতায় আসবেন না? আমি আইনজীবী হিসেবে যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আমি বিচারের আওতায় আসব না? আজকে যেকোনো পেশার যেকোনো মানুষ তিনি যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অফেন্স (অপরাধ) করেন, তিনি কি আসবেন না?’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি যে যাকে ইঙ্গিত করে কথাটা বলছেন, তিনি (ফারজানা রুপা) হেফাজতের এ ঘটনার সারা রাত ওখানে ছিলেন। তিনি বিকৃত সংবাদ প্রচার করেছেন।… তাঁর (ফারজানা রুপা) সমীকরণ নামের যে ফুটেজ, সেই ফুটেজের মধ্যে উনি এমন ভাষা, তথ্য, এমনভাবে বিকৃত করেছেন। তিনি তো সেখানে বলছিলেন যে একজন মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি—নিহত হননি, আহতও হননি। আপনি বলেন, এটা কি সঠিক বক্তব্য ছিল?’
এ সময় আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভুল প্রতিবেদন প্রকাশে কি মানবতাবিরোধী অপরাধ হতে পারে?
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভুল প্রতিবেদনের জন্য তাঁকে (ফারজানা রুপা) অভিযুক্ত করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তিনি (ফারজানা) এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আগে থেকে এই টোটাল মেকানিজমের (সম্পূর্ণ কার্যপদ্ধতি) মধ্যে জড়িত ছিলেন। সেখানে অপরাধ। সেই মেকানিজমের মধ্যে যে তিনি ছিলেন, সেটা তাঁর পরবর্তী সময়ে সমীকরণ প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেদিনের ঘটনায় তো আরও অনেকেই ছিল। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যদি আরও থাকে, আরও আসবে। এটা নিয়ে তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। তদন্ত সংস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করে। তারা তদন্তে যাঁদেরকে ‘সেন্ট আপ’ (হেফাজতে পাঠানো) করবে, যাঁদের বিরুদ্ধে ‘প্রাইমাফেসি অ্যালিগেশন’ (অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা) পাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেবে।
আরেকজন সাংবাদিক বলেন, একটি ঘটনা ঘটে গেছে। ফারজানা রুপা সেটা নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘উনি প্রতিবেদন করেছেন কি না, আপনি জানলেন কেমনে? যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মেকানিজমের অভিযোগ থাকে যে উনি ওই রাতে সারা রাত ছিলেন। ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তার লাইভ অনুষ্ঠান চলছে এবং তিনি হত্যাকাণ্ড গোপন করছেন, তাঁর স্বার্থ কী?...কেন তিনি এটা করতে গেলেন? তাহলে তিনি টোটাল মেকানিজমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আরও যদি কোনো সাংবাদিক জড়িত থাকেন, তাঁরা আসবেন।’