বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খরচ কমিয়ে সাশ্রয়ে জোর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ও করেছে তারা। এর মধ্যেই এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এক বছরে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
তিনটি কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, তুলনামূলক সস্তা জ্বালানি হিসেবে পরিচিত গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। এর ফলে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও পিডিবির কাছ থেকে বাড়তি দাম নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এসব কারণে উৎপাদন খরচ কমানো যায়নি। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্ত হয়েছে বাড়তি খরচ।
চুক্তি অনুসারে সরকারি–বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক আর না করুক, প্রতিটি কেন্দ্রে চুক্তি অনুসারে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। এটি কেন্দ্রভাড়া হিসেবে পরিচিত।
পিডিবি সূত্র বলছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট। ওই বছর কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৯৮ মেগাওয়াট, কেন্দ্রভাড়া ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি নবায়ন না করায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সক্ষমতা কমে হয় ২৭ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট। এবার কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
ভারত থেকে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় প্রতিদিন। এ বিল ডলারে পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদেশি ঋণ আছে, তার কিস্তি পরিশোধ করতে হয় ডলারে। আগের বছরের তুলনায় ডলারের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। এতে পিডিবির খরচ বেড়ে গেছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৫টি। এর মধ্যে বেসরকারি হলো ৬৮টি। পিডিবির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, টাকায় পরিশোধ করা হলেও বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল হিসাব করা হয় ডলারে। বেসরকারি খাতের ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল পুরোটাই ডলারে হিসাব করা হয়। আর সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে সবই ডলারে হিসাব করা হচ্ছে। এর বাইরে ভারত থেকে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় প্রতিদিন। এ বিল ডলারে পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদেশি ঋণ আছে, তার কিস্তি পরিশোধ করতে হয় ডলারে। আগের বছরের তুলনায় ডলারের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। এতে পিডিবির খরচ বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩–২৪ সালের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১০৯ টাকা। ওই অর্থবছরের মে মাসেও দাম ছিল ১১০ টাকা। শেষ দুই মাসে এটি বেড়ে হয় ১১৮ টাকা। তবে গত অর্থবছরের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১১৮ টাকা, যা বছর শেষে দাঁড়ায় ১২২ টাকা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, গত গ্রীষ্মে লোডশেডিং বন্ধ রাখতে আগের বছরের চেয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করা যায়নি। তাই গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে তেল ও কয়লা দিয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়েছে। এতে খরচ বেড়েছে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দরপত্র ছাড়াই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে। একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বাড়তি কেন্দ্রভাড়া ধরে চুক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। পটপরিবর্তনের পর এসব বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনায় ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩–২৪ সালের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১০৯ টাকা। ওই অর্থবছরের মে মাসেও দাম ছিল ১১০ টাকা। শেষ দুই মাসে এটি বেড়ে হয় ১১৮ টাকা। তবে গত অর্থবছরের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১১৮ টাকা, যা বছর শেষে দাঁড়ায় ১২২ টাকা।
বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওই কমিটি। এতে বলা হয়, দেশে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বা অলস বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অলস বসে থাকা এ সক্ষমতার পেছনে বছরে ৯০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার (১১ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা) কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কেন্দ্রভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও এর অপব্যবহারকে চিহ্নিত করেছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি। গত দেড় দশকে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরিশোধ করা বিল ১১ গুণ বাড়লেও কেন্দ্রভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিকে পরিশোধ করা বিলের সবচেয়ে প্রধান অংশ এখন কেন্দ্রভাড়া। সাধারণত ১২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের ঋণের টাকা শোধ হয়ে যায়, কিন্তু চুক্তির কারণে ১৩ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত অত্যন্ত উচ্চ হারে কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়।
কেন্দ্রভাড়া ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়লেও বা কমলেও চুক্তির কারণে কেন্দ্রভাড়া বেড়েই চলছে। কিছু নির্দিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই অসামঞ্জস্য অত্যন্ত বেশি। উচ্চ হারের এই কেন্দ্রভাড়া কমানোর জন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দ্রুত নতুন করে দর–কষাকষি করা এবং যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে সেখানে সরাসরি চুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন বলে মনে করে পর্যালোচনা কমিটি।
গত দেড় দশকে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরিশোধ করা বিল ১১ গুণ বাড়লেও কেন্দ্রভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিকে পরিশোধ করা বিলের সবচেয়ে প্রধান অংশ এখন কেন্দ্রভাড়া। সাধারণত ১২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের ঋণের টাকা শোধ হয়ে যায়, কিন্তু চুক্তির কারণে ১৩ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত অত্যন্ত উচ্চ হারে কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে তুলনা করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা বলছেন, ব্যবহারের ওপর বাড়ির ভাড়া নির্ভর করে না। বাড়িতে না থাকলেও নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। একই রকমভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন না করলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে। দেশে জ্বালানির ঘাটতি আছে। তাই বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির মিশ্রণ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। গ্যাসের অভাব হলে, জ্বালানি তেল বা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র ব্যবহার করা যায়। এ কারণে সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারও দরকার একটা বাড়ি, ভাড়া নিল তিনটা বাড়ি তাহলে মোট ভাড়া নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটা তরকারির লবণের মতো খুব বেশি এদিক-ওদিক করার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রিজার্ভ মার্জিন বা বাড়তি সক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হতে পরে। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মেনে নেওয়া যায়। অথচ দেশে এখন আছে ৫০ শতাংশের বেশি। এটি যত বাড়বে, ততই খরচ বাড়তে থাকবে। বসিয়ে রেখে টাকা দিতে হবে।
চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির পরামর্শে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ (বিদ্যুতের দাম) পর্যালোচনায় আরেকটি কমিটি করা হয়েছে গত বছরের ২১ জানুয়ারি। এই কমিটি কাজ করছে।
কেন্দ্র ভাড়ার কমানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া কমাতে আলোচনা চলছে। চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আগের বছর কয়লা থেকে উৎপাদন হয়েছে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ। গত বছর এটি বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের তুলনায় দ্বিগুণ খরচ হয় কয়লায়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৮ শতাংশ
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ আছে। গত সরকার গত দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। পটপরিবর্তনের পর দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমাতে নজর দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ কমানো হয়েছে। কয়লার খরচ কমানো হয়েছে। কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি গত অর্থবছরে। চলতি অর্থবছরে উৎপাদন খরচ কমতে পারে।
পিডিবির তথ্য বলছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৫৪ পয়সা। প্রতি ইউনিটে ১০ পয়সা কমে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে খরচ হয় ১১ টাকা ৪৪ পয়সা। খরচ কমে প্রায় ১ শতাংশ। আর সবশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে খরচ হয়েছে ১২ টাকা ৩৪ পয়সা। প্রতি ইউনিটে খরচ বেড়েছে ৯০ পয়সা। দেড় বছরেও বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি সরকার। এতে ভর্তুকি ও লোকসান বেড়েছে পিডিবির।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তেল আমদানির সার্ভিস চার্জ ৪ শতাংশ কমানোয় ৪৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রতি জাহাজে ১৫ হাজার টনের বদলে ২০ হাজার টন তেল আমদানি নির্ধারণ করায় ৩৫৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিটের দাম ৮ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করায় বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমিয়ে ২ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থাপনাভাড়া, বিলম্ব মাশুল (জরিমানা) আদায়সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯ হাজার ২১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
কমেছে গ্যাস, বেড়েছে কয়লার ব্যবহার
আগের বছরের তুলনায় ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছিল সাড়ে ৮ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় গ্যাস থেকে। গত বছর গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪৪ শতাংশ। আগের বছর এটি ছিল ৪৮ শতাংশ। তবে উচ্চ খরচের তেলচালিত (ফার্নেস ও ডিজেল) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমানো হয়েছে। বেড়েছে কয়লাচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন। আগের বছর কয়লা থেকে উৎপাদন হয়েছে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ। গত বছর এটি বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের তুলনায় দ্বিগুণ খরচ হয় কয়লায়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপিসির কাছ থেকে তেল কেনে পিডিবি। আর বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেরা তেল আমদানি করে। সবশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করে বিপিসি। এরপর গত দেড় বছরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে তা সমন্বয় করা হয়নি। তাই প্রতি লিটার ফার্নেস কিনতে পিডিবির খরচ হয়েছে ৮৬ টাকা। অথচ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল কিনছে ৭০ টাকায়। এতে পিডিবির খরচ বেড়ে গেছে। বিপিসির দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব বর্তমানে বিইআরসির কাছে আছে। এ মাসে গণশুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
লুণ্ঠনমূলক ব্যয়ের মাধ্যমে গত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। খরচ কমানোর উপায় ক্যাবের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হলেও সরকার সেই পথে যায়নি। দায়মুক্তি আইন বাতিল করলেও সব চুক্তি আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। সরকার আগের ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ খাত চালিয়ে যাচ্ছে।ক্যাব জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম
বেড়েছে লোকসান ও ভর্তুকি
পিডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কেনার পেছনে খরচ বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। আগের বছর এটি ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মূলত বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়েই খরচটা বেড়েছে। বেসরকারি খাতে স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার খরচ বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ খাতেই খরচ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) আইপিপি বিদ্যুতের দাম পড়েছে ১৪ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১৩ টাকা ১৬ পয়সা।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১২ টাকার বেশি খরচ হলেও পিডিবি বিক্রি করে ৭ টাকা ৪ পয়সায়। প্রতিবছর পিডিবির আর্থিক সংকট বাড়ছে। সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি নিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গত অর্থবছরে ভর্তুকি নিয়েছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, লুণ্ঠনমূলক ব্যয়ের মাধ্যমে গত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। খরচ কমানোর উপায় ক্যাবের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হলেও সরকার সেই পথে যায়নি। দায়মুক্তি আইন বাতিল করলেও সব চুক্তি আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। সরকার আগের ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ খাত চালিয়ে যাচ্ছে।