ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিক্রম মিশ্রি

দেড় বছরে স্থবির হয়ে পড়া সম্পর্কে গতি আনতে কাজ করছে ভারত

  • দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে;

  • পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সংবেদনশীলতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে;

  • কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না;

  • কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, সেটা বাংলাদেশই ঠিক করবে;

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য ৪০টির বেশি প্রক্রিয়া রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে স্থবির হয়ে পড়া এসব প্রক্রিয়াকে ভারত পুনরুজ্জীবিত করে ধীরে ধীরে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে।

দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে এটাকে একটি সতর্ক ও পরিকল্পিত উদ্যোগে হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

গত সোমবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ভারত সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে নয়াদিল্লি সফর করছে। তাদের সঙ্গে বিক্রম মিশ্রি প্রায় এক ঘণ্টা দুই দেশের সম্পর্কের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ভারতের ভাবনা, সহযোগিতার বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ভারত ও বাংলাদেশের সাংবাদিকদের এমন সফর প্রতিবছর হয়ে থাকে।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়াদিল্লি বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের কথা বললেও গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পার্লামেন্টের স্পিকার ওম বিড়লাকে ঢাকায় পাঠায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে গতি হারানো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একধরনের ‘সাধারণ বোঝাপড়া’ রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সংবেদনশীলতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। আর সবকিছুর মূলে থাকবে দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণ।

‘কোনো দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সমর্থন করেনি ভারত’

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং এ বিষয়ে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিক্রম মিশ্রি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, যা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।

গত ১৫ বছরে ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়েছে—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, একটি সরকার অন্য একটি সরকারের সঙ্গে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে। ভারত থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ যায়, তা কোনো নির্দিষ্ট দলের নেতা-কর্মীদের ঘরে যায় না—সব নাগরিকের কাছেই পৌঁছায়।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, কোনো একক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়। সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো প্রকল্পগুলোতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব নাগরিক–নির্বিশেষে সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের জোরালো সমর্থন ছিল। শেখ হাসিনার বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে একতরফা বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে ভারতের সমর্থন দেখা গেছে। ভারতের এই নীতি দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘অতীতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। বাংলাদেশে যখন যে সরকার থাকবে, আমরা কাজ করব। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সব পদক্ষেপ যে বাংলাদেশের সব জনগণকে সন্তুষ্ট করেছে, তা আমরা মনে করি না। তবে এটা স্পষ্ট করেই বলি, অতীতে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি ভারত।’

বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন হয়েছে বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে। অপর নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব নির্বাচন নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে গেছে ভারত।

অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। দিল্লিতে তাঁর উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন। এ বিষয়টির সমাধানে আপনারা কী ভাবছেন—সে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার নাম ঊহ্য রেখে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না।’

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি

গত বছর ৬ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, বিশেষ এক পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানেই থাকবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর ওপর নির্ভর করছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধের বিষয়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রসঙ্গটি একাধিকবার এড়িয়ে যান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।

গঙ্গা, তিস্তা আর পশ্চিমবঙ্গের পালাবদল

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিটি ফলপ্রসূভাবে কাজ করেছে এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে।

দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে বিক্রম মিশ্রি বলেন, পানি খাতে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গঙ্গা, তিস্তাসহ পানিবণ্টনের বিষয়গুলো নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সংস্থার বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এখনো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনতে পারে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আগে থেকে অনুমান করতে চাই না।’ তবে এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিস্তা নিয়ে বৃহদায়তন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রস্তাবের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এরই মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নতুন সরকার চাইলে ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে তৈরি আছে ভারত।

ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক ফোরাম

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীন গত বছর থেকে একটি ত্রিদেশীয় ফোরাম করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বছরের শুরু থেকে তিন দেশের সঙ্গে মিয়ানমারকে যুক্ত করে আরেকটি উদ্যোগেও চীন যুক্ত আছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ আর সার্ককে পুরোদমে সক্রিয় করার বিষয়টি নিয়ে ভারতের ভাবনা কী জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘সার্ককে ফলপ্রসূ করতে অতীতে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম; কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফল আসেনি।’

এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘একটি দেশ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানোয় সার্ক স্থবির হয়ে পড়েছে। কাজেই যে দেশটি অতীতে এখানে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করেছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, এটা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এমন প্রেক্ষাপটে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমসটেক নিয়ে আশাবাদী। আর বাংলাদেশ যখন এই মুহূর্তে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে, এখানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা দেখি।’

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি দৃশ্যমান হয়। দুই দেশের সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে ভারত কীভাবে দেখে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখবে, সেটা আমার বলার কথা নয়। এটা বাংলাদেশই ঠিক করবে। আমি শুধু এটুকু বলব, কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ যেন আমাদের দুই দেশের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত না করে সে বিষয়টিতে আমার গুরুত্ব থাকবে।’

রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব

আলোচনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যও উঠে আসে। তিনি ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, মন্তব্যটি বিশেষ একটি প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল এবং বিষয়টি ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে তিনি আর বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জানান, ভারতে বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে বিদ্যমান একটি প্রক্রিয়ার আওতায় লোকজনকে ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বেশ কিছু লোকজনের জাতীয়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কয়েক বছর ধরেই প্রায় তিন হাজার লোকের জাতীয়তা যাচাইয়ের বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। গত পাঁচ বছরে এমন প্রায় তিন হাজার মামলা এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ বন্ধে বিএসএফ সাপ ও কুমির ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে—ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর নাকচ করে দেন বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, খবরটি ভারত সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।

বাণিজ্য, ঋণচুক্তি ও ভিসা

ভারতের দেওয়া ঋণের চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, এটি বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্প সুদে ঋণের সবচেয়ে বড় পোর্টফোলিও ধারণ করছে—যার কিছু প্রকল্প বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক, আবার কিছু প্রকল্পে আগে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্বাগতিক দেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করা। নতুন সরকার যদি নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, তাহলে আমরা সে বিষয়ে বসে আলোচনা করতে তৈরি আছি।’

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য পুরোদমে ভারতীয় ভিসা চালুর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাননি ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। তবে বিষয়টি দ্রুত সুরাহার জন্য ভারত পুরোদমে কাজ করছে বলে জানান।

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের তেল কেনার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘বাংলাদেশের তো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কাজে লাগবে না। বাংলাদেশের প্রয়োজন পরিশোধিত তেল। বাংলাদেশকে আমরা বিদ্যমান সহযোগিতার আওতায় তেল সরবরাহ করছি। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা ভারতের একটি প্রধান অগ্রাধিকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এবং বিএম বিভাগের (বাংলাদেশ মিয়ানমার বিভাগ) বি শ্যাম বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিক্রম মিশ্রির মতবিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশ যখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পথ খুঁজছে, তখন এই প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ ও আস্থা পুনর্গঠনই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ মুহূর্তে দিল্লির বার্তা স্পষ্ট—সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে, তবে তা হবে ধীরে, পরিমিতভাবে এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।