বাংলাদেশের পতাকা হাতে ম্যারাথনে শিবশংকর পাল। কলকাতা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের পতাকা হাতে ম্যারাথনে শিবশংকর পাল। কলকাতা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কলকাতা ম্যারাথন

বাংলাদেশের পতাকা হাতে ম্যারাথন দৌড়ালেন শিবশংকর

বয়স ৬০ বছর। তবে অটুট স্বাস্থ্য, দৃঢ় মনোবল। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে হাজারো ভক্তের সামনে বাংলাদেশের পতাকা হাতে দৌড় শুরু করলেন। সাবলীল ভঙ্গিতেই ৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিটে শেষ করলেন ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটারের ম্যারাথন। স্বপ্নের দৌড় শেষে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জার্মান দৌড়বিদ শিবশংকর পাল।

আজ রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হয় এই ফুল ম্যারাথন। কলকাতায় এটি শিবশংকরের ১৩৯তম দৌড়। ফুল ম্যারাথনের পাশাপাশি এ দিন অনুষ্ঠিত হয় হাফ ম্যারাথন এবং ফান ম্যারাথনও।

এই ম্যারাথনের আয়োজন করে এনইবি স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড। ভোর ৪টায় শুরু হয় ফুল ম্যারাথন। ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটারের এই দৌড়ে অংশ নেওয়ার বয়সসীমা ছিল ১৮ থেকে ৫০ বছর। শিবশংকর এই ফুল ম্যারাথনেই অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হয় ১০ কিলোমিটারের হাফ ম্যারাথন। আর ৫ কিলোমিটারের ফান ম্যারাথন শুরু হয় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। তিন ম্যারাথনে সব মিলিয়ে দৌড়ান ৭ হাজার অংশগ্রহণকারী।

শিবশংকরের জন্ম বাংলাদেশের নবাবগঞ্জে। পড়াশোনা নবাবগঞ্জ হাইস্কুলে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষে চলে যান জার্মানির মিউনিখে। সেখানে খোলেন ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান। কিন্তু ব্যবসা তাঁর দৌড়ের নেশায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

কলকাতায় আসার সময় স্ত্রী শিখা পালকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন শিবশংকর পাল

ম্যারাথনের বৈশ্বিক বড় আসরগুলোতে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই দৌড়বিদের। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক ম্যারাথন, শিকাগো ম্যারাথন, বোস্টন ম্যারাথন, বার্লিন ম্যারাথন, টোকিও ম্যারাথন ও লন্ডন ম্যারাথন।

শিবশংকর বললেন, মিউনিখে ম্যারাথনে সপ্তম হয়েছিলেন। তবে এখনো দুটি ম্যারাথনের স্মৃতি হাতড়িয়ে বেড়ান। একটি সুইজারল্যান্ডের ‘টপ অব দ্য হিল’ আর অন্যটি হিমালয়ে এভারেস্টের বেসক্যাম্পে থেকে নেমে আসার অভিজ্ঞতা।

কলকাতায় ম্যারাথন দৌড়ানোয় নিজের বাড়তি আগ্রহের কথাও জানালেন শিবশংকর। তিনি বলেন, ‘আমার এবার দুবাই ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ছেলে-মেয়েদের অনুরোধে আমি যোগ দিতে এলাম কলকাতার এই ম্যারাথনে। খুব ভালো লাগছে। এখানে এসে মনে বাংলাদেশের নানা স্মৃতি উঁকি মারছে।’

ম্যারাথনে দৌড়াচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা। কলকাতা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কলকাতায় আসার সময় স্ত্রী শিখা পালকে নিয়ে এসেছেন শিবশংকর। জানালেন, তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনই পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি বাবাকে ব্যবসার কাজে সহযোগিতা করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি জার্মানি ফিরবেন স্বামী-স্ত্রী।

দৌড়টা জীবনের অংশ হয়ে গেছে শিবশংকরের। এখনো প্রতিদিন সকালে ১৬ কিলোমিটার দৌড়ান। আর শনি ও রোববার সেই দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। এই দৌড়বিদ বলেন, ‘এ কাজে আমার প্রেরণা স্বামী বিবেকানন্দ আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁরাই আমার আত্মার গুরু। আমি তাঁদের আদর্শে আজও অনুপ্রাণিত হই। ম্যারাথন নিয়ে বেঁচে আছি।’