
জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘দলীয়’ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সরানোর দাবির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি ‘কনভিন্সড’ হয় এবং তারা যদি মনে করে রদবদল প্রয়োজন, তাহলে তারা বলবে। তখন বিবেচনা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা বলেন। আগের দিন গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নেই অভিযোগ করে ‘দলীয়’ ডিসি ও এসপিদের (পুলিশ সুপার) অপসারণ করার দাবি জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গ টেনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেই রদবদল করবেন কি না? জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা রদবদলের কথা তো বলছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি “কনভিন্সড” হয়, তারা যদি মনে করে যে হ্যাঁ রদবদল প্রয়োজন, তাহলে তারা বলবে। তখন না আমরা বিবেচনা করব, সেভাবে ব্যবস্থা নেব। কারণ, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বা অভিমতের এখন অনেক বেশি মূল্য। সেটাই আমরা অনার করার চেষ্টা করব। তারা কনভিন্সড হোক আগে।’
নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনের প্রতি অভিযোগের বিষয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত সে রকম কিছু দেখেননি। কোথাও কোথাও কোনো কোনো সিদ্ধান্তে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হননি, এটা হতেই পারে। সবার সিদ্ধান্ত একরকম হয়, তা নয়। আর সব প্রার্থীরও পরিস্থিতি তো একরকম ছিল না। সুতরাং কিছু কিছু পরিবর্তন হতেই পারে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, এখানে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তারা (রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ডিসি) তাৎক্ষণিক বিবেচনায় যেটা সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেছেন, সেটা হয়তো নিয়েছেন। সেটা যদি সঠিক না হয়ে থাকে, তাহলে তো আপিলের সুযোগ আছে। সেই সুযোগটা এখন প্রার্থীরা নিচ্ছেন। শত শত প্রার্থী আপিল করেছেন এবং আরও করছেন।
বর্তমান ডিসিদের আগের নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমি তো এখনো আশাবাদী যে পারা যাবে ইনশা আল্লাহ। অভিজ্ঞতা তো সবাই নিয়ে আসে না। অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়। অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তাঁরা সঠিক পথে চলতে পারবেন, এটা নিশ্চিত করতে পারি এবং তাঁদের যদি মনোভাব সঠিক থাকে, তাহলে তাঁরা সফল হবেন, ১০০ পার্সেন্ট সফল হবেন ইনশা আল্লাহ। আর আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তখন আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু ঢালাওভাবে তো কিছু না, আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তাঁরা প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন।’