
দেশে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন, এমন নাগরিকের হার সাড়ে ১০ শতাংশ। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আইন সম্পর্কে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন, এমন মানুষের হার খুবই কম।
তথ্য অধিকার নিয়ে একটি জাতীয় জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও তথ্য অধিকার ফোরামের করা এই জরিপে ৩ হাজার ২০০ নাগরিক অংশ নেন। এ ছাড়া তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও আপিল কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার, আলোচনা সভা এবং তথ্য কমিশনের ১০০টি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমআরডিআইয়ের ফেসবুক পেজে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপে দেখা যায়, আইন সম্পর্কে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কখনো না কখনো তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁদের এখন বা ভবিষ্যতে তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে।
স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তথ্যের ভূমিকা সম্পর্কেও নাগরিকদের ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। এলাকার সমস্যা আছে, এমন উত্তরদাতাদের ৮৭ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, তথ্য পেলে সমস্যা সমাধানে সহায়তা হতে পারে। তবে এক-চতুর্থাংশের বেশি উত্তরদাতা কোন তথ্য তাঁদের কাজে লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
আইন সম্পর্কে জানা থাকলেও আবেদন করার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা সীমিত। সচেতন উত্তরদাতাদের মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ বলেছেন, তথ্য চাওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়—এটি তাঁরা জানেন। আবেদন করার নিয়ম বা কোথায় আবেদন করতে হয়, তা না জানা তথ্য না চাওয়ার একটি কারণ। কেউ কেউ মনে করেন, আইনটি কাজে দেবে না।
জরিপে অংশ নেওয়া তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদের ৯৮ শতাংশ আইনটি সম্পর্কে জানেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আইন ও আবেদন-প্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা আছে ৩৫ শতাংশের। আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৪৯ শতাংশ কর্মকর্তা। প্রায় ৬৪ শতাংশ কর্মকর্তা তথ্য অধিকার আইনে আসা আবেদনগুলোর সমন্বিত নথি সংরক্ষণ করেন না।
আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতাও সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক নয়। তাঁদের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ তথ্য পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক বলেছেন; ৫১ দশিক ৫ শতাংশের অভিজ্ঞতা নেতিবাচক। নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে দেরি, আবেদন গ্রহণে অনীহা, অপ্রয়োজনীয় ফি দাবি ও লিখিত জবাব দিতে না চাওয়া।
তথ্য না পেলে আপিলের সুযোগ থাকলেও সেই ব্যবস্থায় দুর্বলতা আছে। জরিপে অংশ নেওয়া আপিল কর্তৃপক্ষের ৩০ শতাংশ তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পাননি। তথ্য কমিশনের ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেওয়া ১০০টি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৩ শতাংশ অভিযোগ শুনানির জন্য গ্রহণ করতেই ৩০ দিনের বেশি সময় লেগেছে। অভিযোগ গ্রহণের পর ৮১ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়েছে। তবে কমিশনের পক্ষে তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরও ২৩ শতাংশ অভিযোগকারী শেষ পর্যন্ত তথ্য পাননি।
প্রতিবেদনে আইন সম্পর্কে সহজ ভাষায় প্রচার, আবেদন ও আপিলের পদ্ধতি সহজ করা, দপ্তরগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।