
দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, সচেতনতা এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, এইচপিভি শুধু জরায়ুমুখ ক্যানসারের কারণ নয়, এটি নারী এবং পুরুষ যে কারও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। কার্যকর টিকাদান, জনসচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব।
রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সোমবার ইন্টারন্যাশনাল প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক আশরাফুন্নেছা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এইচপিভি সবচেয়ে সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণগুলোর একটি, যার ২০০টির বেশি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভি-১৬ ও এইচপিভি-১৮ স্টেইন জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী। এ ছাড়া পায়ুপথ, মুখগহ্বর, যোনিপথ ও পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।
আশরাফুন্নেছা বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ নারীদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভির প্রাদুর্ভাব ৪ দশমিক ২ শতাংশ। উপকূলীয় অঞ্চলে এ হার ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, তাঁদের লক্ষ্য এইচপিভি-সংক্রান্ত রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ জন্য টিকাদান, স্ক্রিনিং, গবেষণা, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি ও অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা হবে। তিনি জানান, চ্যাপ্টারের কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখ ক্যাসারের সঙ্গে এইচপিভির সম্পর্ক আবিষ্কারের পর এই ভাইরাস প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব বেড়েছে।
আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৯ হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। তিনি ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কাজী আহম্মেদ জাকী বলেন, ‘৯০-৭০-৯০’ কৌশলের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা হচ্ছে।
বিএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নত হলেও সেবার মানে দেশ পিছিয়ে আছে। বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানটি আইপিভিএসের অধীনে ১০০টির বেশি দেশের গবেষক, চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদাহরণ তৈরি করেছে।