অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
এর আগে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে। একটি প্রজ্ঞাপনে গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার কথা জানানো হয়।
অপর প্রজ্ঞাপনে নতুন গভর্নর নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম–সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে এ–সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন রিটটি করেন।
আবেদনকারীর আইনজীবী এম সরোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শুনানির জন্য আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে রিটটি উপস্থাপন করা হবে। ইনক্যাপেবল (অক্ষম) ও ইনক্যাপাসিটি (শারীরিক–মানসিক অক্ষমতা) না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরকে অপসারণ করা যায় না। এ ধরনের নিয়োগ (মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ) জনগণের প্রতি মিসট্রাস্ট (অনাস্থা)।
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে অপসারণ এবং মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগের ২৫ ফেব্রুয়ারির পৃথক প্রজ্ঞাপন কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারির পৃথক প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে রিটে। অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর ও গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৮ সালের আগস্টে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করা হয়। তাঁর স্থলে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।