কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করুন আপনার যাত্রা

ভক্ত ও অনুসারীদের সঙ্গে নিজেদের কাজ ও সম্পর্ক বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত আরও বেশি নিয়ন্ত্রণসক্ষমতার খোঁজ করে যাচ্ছেন ফেসবুকে কনটেন্ট নির্মাতারা। নির্মাতা হিসেবে ফেসবুকে টিকে থাকা ও জনপ্রিয়তা লাভের জন্য কিছু পদ্ধতি ও নীতিমালা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। নির্মাতাদের আরও সক্ষম করে তুলতে কমেন্ট–নিয়ন্ত্রণ সুবিধা দেয় ফেসবুক, যাতে তাঁরা যেকোনো কনটেন্টে আলোচনা-সমালোচনাকে প্রয়োজন অনুসারে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

ফেসবুক প্রোফাইলে প্রফেশনাল মোড (প্রোমোড) চালু করার মাধ্যমে মডারেশন অ্যাসিস্টের মতো নিরাপত্তাসুবিধা উপভোগ করা যাবে। এটি পোস্টে অনাকাঙ্ক্ষিত লিংক বা প্রোফাইল ছবিবিহীন অ্যাকাউন্টের কমেন্টসহ যেকোনো অবাঞ্ছিত কমেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলতে সাহায্য করবে।

এ জন্য বর্তমানের প্রোফাইলকেই নির্মাতার প্রোফাইল হিসেবে ব্যবহারের সুবিধা দেবে প্রোমোড। প্রফেশনাল টুলসের পাশাপাশি অডিয়েন্স বা দর্শকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে যাওয়া ও মনিটাইজেশনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্মাতা হিসেবে সাফল্য অর্জনে প্রোমোড চালু করার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। এখন ফেসবুকে নির্মাতারা তাঁদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের লিংক–সংযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইলটিতে আরও স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবেন। এ ছাড়া প্রাইভেসি সেটিংসকে ব্যক্তিগত সুবিধা ও প্রয়োজন অনুসারে নতুন করে সাজিয়ে নিতে পারবেন। সেটআপ সম্পন্ন হওয়ার পর হোমে ‘ইয়োর ডেইলি চেকলিস্ট’ হিসেবে প্রোফাইলকে আরও সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য করণীয় ও বিভিন্ন কৌশল (টিপস) দেখানো হবে, যা নির্মাতাদের জন্য ফেসবুকের সাম্প্রতিক সংযোজন এডুকেশন রিসোর্সেস অ্যান্ড টুলস অংশ।

অ্যাকাউন্টের প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ক্রিয়েটর এডুকেশন’ সুবিধাটি ব্যবহার করে সরাসরি এমন বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা অর্জন করা যাবে। এ ছাড়া রিল বানানোর প্রয়োজনীয় টিপস, এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভুল এবং তা এড়ানোর উপায়, মনিটাইজেশন অর্থাৎ কনটেন্ট থেকে অর্থ আয়ের যোগ্যতা অর্জন, প্রক্রিয়া, বণ্টনসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা পাবেন, যা সফল নির্মাতা হওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

ব্যবহারকারীর সুবিধার্থে টুলগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অ্যাড সেন্টার: অ্যাড সেন্টারের মাধ্যমে নিজের জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করে ফেসবুকে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানো এবং ব্যবসা আরও সফলভাবে বিস্তৃত করা।

পেজ অ্যাক্সেস: পেজ অ্যাক্সেসের মাধ্যমে অন্যদের পেজের ব্যবস্থাপনার জন্য আহ্বান জানানো যাবে। সেই সঙ্গে কাদের হাতে এই ব্যবস্থাপনার সুযোগ থাকবে, সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

লিংকড অ্যাকাউন্টস: অ্যাকাউন্ট সংযুক্তির মাধ্যমে একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

মডারেশন অ্যাসিস্ট: মডারেশন–সহায়তা সুবিধার মাধ্যমে কনটেন্টের কমেন্টস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অশ্লীল শব্দ মুছে ফেলা, নির্ধারিত কি-ওয়ার্ডস ব্লক করাসহ প্রয়োজনীয় নীতিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করা যাবে, যা কনটেন্টকে আরও সুরক্ষিত রাখবে।

ফ্যান এনগেজমেন্ট টুলস: এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি নিবেদিত ও সাড়া দানকারী ফ্যানদের স্বীকৃতি জানাতে ‘টপ ফ্যান ব্যাজ’ চালু করা যাবে।

কমেন্টস ম্যানেজার: এর মাধ্যমে আলাদাভাবে কমেন্টস খুঁজে বের করার পাশাপাশি বিশেষ কমেন্টসে লাইক, হাইড, ডিলিট, রিপ্লাই বা রিপোর্ট করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা পারসা মেহজাবিন বলেন, ‘প্রোমোড আমার জন্য কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করেছে। এর মাধ্যমে আমি কমেন্টস সেকশন আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি এবং ক্রসপোস্টিংয়ের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছি। এনগেজমেন্ট নিয়ন্ত্রণকে এটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে এবং একই সঙ্গে আমার পূর্বের অভিজ্ঞতাকে পাল্টে দিয়েছে!’

দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং কনটেন্ট থেকে উপার্জনের মাধ্যমে ফেসবুকে সফল নির্মাতা হতে চাইলে ‘ফেসবুক ফর ক্রিয়েটরস’ থেকে ঘুরে আসতে পারেন যে কেউ। মেটা ও অন্যান্য সফল নির্মাতার পক্ষ থেকে সেরা সব ‘কৌশল ও করণীয়’র তালিকাটিও কাজে লাগানো যেতে পারে।

এ ছাড়া পেজ ব্যবস্থাপনা ও প্রফেশনাল মোডের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন ‘মেটা বিজনেস হেল্প সেন্টার’।