
ঢাকা শহরের চারদিকে চক্রাকার (সার্কুলার) রেললাইন নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চীনের একটি এবং বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ দলের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার চুক্তি সই হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে চায়না রেলওয়ে সিয়্যুয়ান সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইন গ্রুপ এবং বাংলাদেশের বেটস কনসালটিং সার্ভিসেস লিমিটেড ও ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডভাইজারস লিমিটেড।
রেলভবনে বাংলাদেশের পক্ষে চক্রাকার রেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম ফিরোজী এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চু জুকুয়ান নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
সরকারের রাজস্ব খাত থেকে চক্রাকার রেলের সম্ভাব্যতা যাচাই কাজের অর্থ ব্যয় করা হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুসারে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এক বছরের মধ্যে চক্রাকার রেললাইনের সম্ভাব্য পথ (রুট) নির্ধারণ করবে।
রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, চক্রাকার রেল প্রকল্পে সরকারের নীতিনির্ধারকদের আগ্রহ আছে। কিন্তু এই রেল নির্মাণের জন্য বিপুল বাজেট দরকার, যা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফাঁকে চীনসহ বিভিন্ন দেশের অর্থায়নের জন্য চেষ্টা চালানো হবে। এরপর নির্মাণকাজের জন্য তৎপরতা শুরু হবে। চক্রাকার রেললাইন নির্মাণ হলে ঢাকার যানজট কমে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার রেল খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রকল্প চলমান আছে। চক্রাকার রেল হলে ঢাকা শহরের যাত্রীদের যাতায়াত সময় বেঁচে যাবে। যানজট অনেকটা কমবে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত আরও দুটি রেললাইন নির্মিত হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যাত্রীদের ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া আরও দ্রুততর হবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, রেলের মহাপরিচালক মো. কাজী রফিকুল আলম প্রমুখ।