
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসায় আন্দোলনকারীরা দেখা করতে গেলে ২০ জনকে আটক করে পুলিশ। আটকের তিন ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে অবশ্য তাঁদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় রমনা থানার পুলিশ।
পুলিশ বলেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তাঁদের আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল ১০টার দিকে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শ খানেক চাকরিপ্রত্যাশী রাজধানীর মিন্টো রোডে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সরকারি বাসার নিচে অবস্থান নেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাঁদের ভবনের নিচে অপেক্ষা করতে বলেন। ২০-২৫ জনকে রেখে আন্দোলনকারীরা বেইলি রোডে চা পান করতে যান। একপর্যায়ে রমনা থানার পুলিশ সেখান থেকে মানিক, রিপনসহ তিনজনকে ধরে পুলিশের ভ্যানে তোলেন। এরপর পুলিশ প্রতিমন্ত্রীর বাসার নিচ থেকে আরও ১৭ জনকে ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশ সেখান থেকে আন্দোলনরত মেয়েদের আটক করেনি। পরে বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ২০ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ইবনে আহমেদ তানজীর আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, গত আড়াই-তিন বছরে করোনার কারণে তাঁরা চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেননি। এ অবস্থায় তাঁদের বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এ কারণে তাঁরা ৯ মাস ধরে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোসহ চার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। গতকাল সোমবার রাতে যোগাযোগ করলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ব্যক্তিগত সচিব তাঁদের সকাল ১০টায় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দেন। সেই কারণে তাঁরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
তানজীর বলেন, প্রতিমন্ত্রী একজন জনপ্রতিনিধি, দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে তাঁরা যেতেই পারেন, এটাই স্বাভাবিক। এর আগে চাকরির বয়স বাড়ানোর দাবিতে তাঁর সঙ্গে অন্তত পাঁচবার দেখা করেছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিমন্ত্রী সাক্ষাতের সময় দিলেন, আবার তাঁদের আটক করালেন কেন? তিনি দেখা করবেন না বললে তাঁরা এমনিতেই চলে যেতেন।
এ বিষয়ে জানতে আজ যোগাযোগ করা হয় রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আন্দোলনকারীরা সেখানে কেন গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে জানতে তাঁদের থানায় আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।