
মিথ্যা পরিচয়ে অন্যের হয়ে জেল খাটার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার নকল সোহাগকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ বুধবার এই আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুর রহমান।
জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত আসামির স্থলে অন্য আরেকজন আসামি সাজানোর অভিযোগে দুজন আইনজীবীসহ চারজনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। মামলার চার আসামি হলেন প্রকৃত সোহাগ, ভুয়া পরিচয় দেওয়া সোহাগ, আইনজীবী শরীফ শাহরিয়ার সিরাজী ও ইব্রাহীম হোসেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কোতোয়ালি থানার মামলায় ভুয়া পরিচয়ে অন্যের হয়ে জেল খাটা আসামি নকল সোহাগকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামি সোহাগের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার কাগজপত্র ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর রাজধানীর কদমতলী এলাকায় হুমায়ূন কবির নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় বড় সোহাগসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১০ সালে গ্রেপ্তার হন বড় সোহাগ। আর ২০১৪ সালে জামিনে গিয়ে পলাতক হন তিনি। অবশ্য ২০১৭ সালে বড় সোহাগসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। পরের বছর ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি বড় সোহাগ পরিকল্পনা করে নকল সোহাগকে আদালতে আত্মসমর্পণ করান। আদালত পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রকৃত অপরাধী বড় সোহাগ সম্প্রতি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি এখন কারাগারে আছেন। গত ২৬ জানুয়ারি কদমতলী থানার পরিদর্শক সজীব দে আদালতে এক প্রতিবেদন দিয়ে বলেন, বড় সোহাগের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলা রয়েছে।
আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া সোহাগ প্রকৃত সোহাগ নয়। প্রকৃত আসামি না হলেও জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ব্যক্তির ওকালতনামা নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা ভুয়া ব্যক্তিকে প্রকৃত ব্যক্তি সাজিয়ে একজনের সাজা আরেকজনকে ভোগ করিয়ে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।