ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল

ডেমরার দুই কারখানায় আগুনে তিনজন দগ্ধ

রাজধানীর ডেমরায় আজ বৃহস্পতিবার খাবারের প্যাকেট ও লাগোয়া কালি তৈরির কারখানাসহ দুটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শ্রমিকসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন কারখানার শ্রমিক সুজন মিয়া (২২) ও বাবু (২৮) এবং অগ্নিনির্বাপণকর্মী নাঈম হোসাইন (২৮)। তাঁদের মধ্যে সুজন মিয়ার অবস্থা সংকটজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

অগ্নিদগ্ধ সুজনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর সহকর্মী মো. সোহেল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় খাবার প্যাকেট ও কালি তৈরির কারখানা রয়েছে। এর পাশে আরেকটি কারখানা। দুটি কারখানাই একতলা টিনশেডের। আজ সকালে খাবারের প্যাকেট তৈরির কারখানায় কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন ধরে যায়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানার শ্রমিক সুজন ও বাবু দগ্ধ হন। সুজনকে ঢামেক হাসপাতালে এবং বাবুকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যরা নিরাপদে বেরিয়ে যান।

ঢামেক বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কারখানার শ্রমিক সুজন মিয়ার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁর অবস্থা সংকটজনক। অগ্নিনির্বাপণকর্মী নাঈম সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আজ বেলা বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট সোয়া দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, খাবার প্যাকেট তৈরির কারখানায় রাসায়নিক–জাতীয় পদার্থ ছিল। তাই দ্রুত আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নজমুজ্জামান বলেন, আবাসিক এলাকায় এই প্রতিষ্ঠান দুটি কীভাবে গড়ে উঠল, তা তদন্তের পর জানা যাবে। কারখানা দুটি চালুর আগে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নেয়নি।