তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন, ঢাকা, ১৫ মার্চ ২০২৬
তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন, ঢাকা, ১৫ মার্চ ২০২৬

রেশনিং তুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও চাহিদামতো তেল মিলছে না

সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রথা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদামতো তেল দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চালকেরা। আগের নিয়মেই তেল বিক্রি করছে ফিলিং স্টেশনগুলো। তারা বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে লিখিত কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি।

আজ রোববার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না। সবাই চাহিদামতো তেল কিনতে পারবেন।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশনে বেলা একটার দিকে দেখা যায়, আগের নিয়মেই মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার আর প্রাইভেট কারের জন্য ১০ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। এর বেশি তেল ক্রেতারা চাইলেও বিক্রি করা হচ্ছে না।

এই পাম্পের হিসাব ব্যবস্থাপক মীর আজিম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসছে, সেটার প্রজ্ঞাপন এখনো আমরা হাতে পাইনি। সে জন্য আমরা ওইভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আমরা যখন সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রজ্ঞাপন পাব, তখন ওই আলোকে আমরা আগের মতো ব্যবস্থা নেব। এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের আগের নিয়মে তেল বিক্রি করে যাচ্ছি।’

একই সময়ে পাশের পূর্বাচল ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন বন্ধ দেখা যায়। সেখানকার কর্মচারী মোহাম্মদ আলী জানান, চার দিন ধরে তাঁরা ডিপো থেকে তেল পাচ্ছেন না। সে জন্য পাম্প বন্ধ রেখেছেন।

বেলা দেড়টার সময় রাজধানীর রমনা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের কাছে আগের নিয়মে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। এই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেলচালক মইনুল হাসান। তিনি জানান, সরকার বলেছে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেবে। কিন্তু পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখেন কোথাও ২০০ টাকার, কোথাও ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।

প্রতিবছর মোটরসাইকেলে করে ঈদে বাড়ি যান মইনুল। তিনি বলেন, ‘এবারও ভাবছি মোটরসাইকেলেই বাড়ি যাব। তবে এবার মনে হচ্ছে, বাড়ি যাওয়ার আগে সারা রাত পাম্প থেকে পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।’

সকালেই ফুরিয়ে গেছে তেল। তাই বিক্রিও বন্ধ। বিনিময় ফিলিং স্টেশন, ঢাকা, ১৫ মার্চ ২০২৬

বেলা আড়াইটার সময় গিয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশন বন্ধ দেখা যায়। ক্রেতারা তেলের জন্য এসে ফিরে যাচ্ছেন। ফিলিং স্টেশনটির কর্মচারী মো. সাগর জানান, সকালেই তেল শেষ হয়ে গেছে; এখন পর্যন্ত তেল আসেনি। আজকের তেল আসবে কি না, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে বেলা দুইটার সময় গিয়ে দেখা যায় আগে নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি হচ্ছে। তেল নিতে আসা মিঠু মিয়া বলেন, ‘শুনছি, সরকার বলেছে রোববার থেকে যতটুকু চায় ততটুকু তেল দেবে, পাম্পগুলো তো দিচ্ছে না। এটা তো পাম্পগুলোর দোষ। এখন তারা না দিলে কী আর করার আমাদের। ৫০০-৬০০ টাকার যা দেয়, তাই নিতে হবে।’

এই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিপোতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা দিয়েছেন। পেয়েছেন সাড়ে ৯ হাজার লিটার। সে জন্য ক্রেতাদের চাহিদার আলোকে তেল দিতে পারছেন না। সবাইকে আগের নিয়মেই দিচ্ছেন। সরকারি কোনো নির্দেশনা লিখিতভাবে পাননি বলেও জানান তিনি।