বাবার কোলে চড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে শিশুটি
বাবার কোলে চড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে শিশুটি

শহীদ মিনারে শিশুদের শ্রদ্ধা

আবরার হোসেনের বয়স ছয় বছর। প্রাক্‌-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে এবার। থাকে রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়ায়। বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল ও মা শাহিনুর আক্তারের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছে আবরার। ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে সে।

এবারই প্রথম শহীদ মিনারে এসেছে শিশু আবরার। আবরারের বাবা আবদুল আউয়াল প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের মনে যেন দেশের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়, এ জন্য তিনি আবরারকে শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছেন। তিনি ছেলেকে শহীদ মিনার, ভাষা আন্দোলন ও দেশের ইতিহাস জানাতে চান। আবদুল আউয়াল বলেন, ‘এ শিক্ষা আবরারকে একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।’

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক শিশু

আবরারের মতো আরও অনেক শিশু-কিশোর আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে। কেউ এসেছে মা–বাবার হাত ধরে, কেউবা শিক্ষকের সঙ্গে। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন।

ভোর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গেছে। বেলা যত বেড়েছে, মানুষের ভিড় ততই বেশি হয়েছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।

যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এসেছে সাহেদুল ইসলাম। দনিয়ার বর্ণমালা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে সে। বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এসেছে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। সাহেদুল প্রথম আলোকে জানায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এবারই প্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছে সে। এখানে আসার পর দেশের প্রতি ও বাংলা ভাষার প্রতি আরও বেশি টান অনুভব করছে সে।