পটুয়াখালীর ‘কালা মানিক’। সঙ্গে ফ্রি খাসি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে
পটুয়াখালীর ‘কালা মানিক’। সঙ্গে ফ্রি খাসি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে

ঢাকায় ২২ লাখে কালা মানিক, সঙ্গে খাসি ফ্রি

বেচাকেনা জমে উঠেছে ২০টি অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি ২টি স্থায়ী পশুর হাটে।

চকচকে কালো রঙের বিশালদেহী গরু। ঠিক পাশেই বাঁধা একটি খাসি। কালো-সাদা রঙের মিশেলে লোমশ শরীর, মাথায় বাঁকানো শিং। পাশাপাশি বাঁধা এই প্রাণী দুটি কোরবানির হাটের বাড়তি আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি কোরবানির হাটের ১ নম্বর হাসিল ঘরের কাছেই দেখা মেলে প্রাণী দুটির। হাটে আসা অনেক মানুষের কৌতূহল গরুটি নিয়ে। পাশে দাঁড়িয়ে আগ্রহী মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন মজিবর জমাদ্দার নামের এক ব্যক্তি।

কথা বলে জানা যায়, গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘কালা মানিক’। এর মালিক সোহাগ মৃধা। তাঁরা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে হাটে এসেছেন। মজিবর জমাদ্দার সম্পর্কে সোহাগের চাচা। মজিবর জমাদ্দার জানান, কালা মানিকের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট। ওজন প্রায় ৪৫ মণ বা ১ হাজার ৮০০ কেজি। সাত বছর ধরে বাড়িতে লালনপালন করা হয়েছে গরুটি।

গরুর সঙ্গে থাকা খাসিটি আলাদাভাবে বিক্রি করা হবে না জানিয়ে মজিবর জমাদ্দার বলেন, যে ব্যক্তি কালা মানিক কিনবেন, তাঁকে উপহার হিসেবে খাসিটি দেওয়া হবে। খাসিটির ওজন প্রায় ৫০ কেজি।

তবে দুপুর পর্যন্ত গরুটির নির্দিষ্ট দাম বলতে চাননি তাঁরা। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সোহাগ মৃধা জানান, গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ২২ লাখ টাকা। হাটে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তবে ২০ লাখ টাকা পেলেই গরুটি বিক্রি করে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের।

গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর হাট শুরু হয়েছে। এ বছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ২১টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও বসেছে ২০টি হাট। দুই সিটি এলাকায় ১০টি করে অস্থায়ী হাট পরিচালিত হচ্ছে।

অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি রাজধানীতে রয়েছে দুটি স্থায়ী পশুর হাট। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির গাবতলী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির সারুলিয়া পশুর হাটেও জমে উঠেছে কেনাবেচা।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আনা হয়েছে বিশাল আকারের এক জোড়া গরু। গতকাল উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে।

দেখতে যেন ‘যমজ’ গরু

চুয়াডাঙার আলমডাঙ্গা থেকে ২৬টি গরু নিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি কোরবানির হাটে এসেছেন পাইকার আক্তার ব্যাপারী। এর মধ্যে দুটি বড় গরু আলাদাভাবে নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। পাশাপাশি দাঁড় করালে গরু দুটির গঠন, রং ও আকৃতিতে এতটাই মিল যে অনেকেই ‘যমজ গরু’ মনে করছেন।

আক্তার ব্যাপারী জানান, বড় দুটি গরু তিনি বাছুর অবস্থায় কিনে সাড়ে তিন বছর ধরে নিজের বাড়িতে পালন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই বাড়ি থেকে কেনা হলেও গরু দুটির আকার-আকৃতিতে মিল রয়েছে। কাঁচা ঘাস, বিচালি ও গমের ভুসি খাইয়ে বড় করা হয়েছে গরুগুলোকে।

গরু দুটির দাম নিয়ে আক্তার ব্যাপারী বলেন, প্রথমে ২৫ লাখ টাকা চাইলেও এখন ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ছাড়তে রাজি আছেন।