রনজিলা পারভিন
রনজিলা পারভিন

ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু: আসামি প্যারা পনিরসহ ৩ জন রিমান্ডে

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের (৫৬) মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি পনি ওরফে প্যারা পনির ও তাঁর সহযোগী সেড্রিক জুলিয়ান (২৪) এবং মোটরসাইকেলটির মালিক মো. রাকিব হোসেনকে (২৪) রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালত আসামিদের পাঁচ দিন করে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং মূল হোতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে তাঁদের জিজ্ঞেসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী আমির উদ্দিন আমিরসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রনজিলা পারভিন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।‎ তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। তাঁর স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পোশাকের ব্যবসা করেন। ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে তাকিয়া আকতার রাইসা। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া থেকে বাসে করে ঢাকায় আসেন রনজিলা পারভিন ও তাঁর স্বামী আবদুল মতিন। ভোরে কল্যাণপুর টার্মিনালে বাস থেকে নেমে তাঁরা অটোরিকশায় করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে আসতেই একটি মোটরসাইকেলে করে এসে পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় রনজিলা পারভিন অটোরিকশা থেকে নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সঙ্গে থাকা স্বামী তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।