
শিক্ষার্থীদের যুক্তিতে শাণিত করা এবং তাদের আরও বেশি যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ২২তম বিতর্ক কর্মশালা।
আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে কলেজের অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালার আয়োজন করে মাইলস্টোন কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। কর্মশালা শেষ হবে আগামীকাল রোববার।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মশালার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয়। নিজেকে সময়োপযোগী ও যোগ্য করে তুলতে পাঠ্যক্রমের বাইরেও নানা বিষয়ে জানার এবং দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতা তৈরি করে।
মোহাম্মদ জিয়াউল আলম আরও বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই যৌক্তিক চিন্তার চর্চা বাড়ানো জরুরি। আবেগ বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়; বরং যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই টেকসই সমাধান সম্ভব। বিতর্ক কর্মশালাকে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস এবং কার্যকরভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। এর আগে উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, সুন্দরভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাবনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র—সব জায়গাতেই যোগাযোগের দক্ষতা মানুষের সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই বিতর্কচর্চা শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়; বরং নিজেকে যুক্তিবাদী ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম।
আনিসুল হক আরও বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তি বিশ্লেষণ, উপস্থাপন এবং মতভেদকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করার শিক্ষা পায়। পরাজয়কে হাসিমুখে মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে পরাজয় মেনে নিতে শেখা গেলে সমাজের অনেক সংকটের সমাধান সম্ভব। তাঁর ভাষায়, বিতর্কের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং যৌক্তিকতার মাধ্যমে সত্যকে অনুসন্ধান করা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বলেন, শুধু বিতর্কের মঞ্চেই নয়, বাস্তব জীবনেও জ্ঞানচর্চা ও গভীর পাঠাভ্যাস জরুরি। তিনি বই পড়া, বিশ্লেষণী চিন্তা ও দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কথার শক্তি যেমন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তেমনি বিভক্তও করতে পারে। তাই তরুণদের জ্ঞান, যুক্তি ও ইতিবাচক চিন্তার আলো দিয়ে সমাজ ও বিশ্বকে আলোকিত করার আহ্বান জানান তিনি।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। কর্মশালার প্রথম দিনে বিতর্কের ইতিহাস, বিতর্কের প্রকারভেদ, রম্য বিতর্কের দলীয় পরিচিতি এবং সনাতনী বিতর্কের নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বিতর্কচর্চার প্রেরণা, বারোয়ারি, প্ল্যানচেট ও জাতিসংঘ মডেল বিতর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। কর্মসূচিতে কবিতা আবৃত্তির আয়োজনও থাকবে। দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হবে ‘বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বিশেষ সেশন।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিন রোববার বিতর্কের নিয়মাবলি, সংসদীয় বিতর্কের দলীয় কাঠামো, বিতর্কচর্চার অনুপ্রেরণা এবং উচ্চারণভিত্তিক প্রশিক্ষণের আয়োজন থাকবে। এ ছাড়া ইংরেজি বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন থাকবে। দুপুরের পর ‘বিতার্কিক হয়ে ওঠা’ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক সেশন দিয়ে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।